তমা আগেও এসে ফিরে গেছে, তিনি ঢুকতে দেননি, সে আজ ভোর থেকেই আগ্রহ নিয়ে এই প্রোঢ়ার কাজ-কর্ম দেখছে,সবসময় তমা, বা বুয়া কাওকে না কাওকে তিনি পাশে রাখেন, আজ এত কাজ তবু কাওকে কাছে ভীড়তেও দেননি!
তমা ঢুকেই অভিযোগের কন্ঠে বলল,দেখলেন মা! বুয়া আজ শুধু ঘর গোছালো, রান্না ঘরের কাছেও এলোনা!কেমন ফাঁকিবাজ!এখন রান্নাবাড়ার কি হবে?এমনিতেই আজ এত আয়োজন, এতবার ডাকলাম, পাত্তাই নেই!আপনাকে পুরোটা একা সামলাতে দিয়ে চলে গেছে! কি আশ্চর্য! ভাগ্যিস আমি এলাম নয়তো…!
তমাকে থামিয়ে দিলেন রেনু,বললেন,ও যায়নি, বৌমা, আমি পাঠিয়ে দিয়ছি! তুমি আবার ওএলে কেন? তুমিও চলে যাও! ভেবনা! আজ সব আমি করব!
প্রতিবছর এই দিনের রান্নাটা আমি নিজের হাতেই করি, এবারও আমিই করব!
না না মা আপনি একা এতসব কেন করবেন, আগেতো আমি ছিলাম না তাই করেছেন। এবার আমি আছি, আমিও….রেনুর গম্ভীর কন্ঠ এবারও থামিয়ে দিলো তমাকে, তিনি বললেন,
না! বৌমা! আজ আমি করব সব! আমি একা!
কিন্তু মা,আমি…!তমা তাকে বোঝাতে চাইল।
বললাম তো,সব আমি করব! তার ভরাট গলায় পুরোপুরিভাবে থামল তমা,ধীরে বলল, আচ্ছা মা!
মাঝেমাঝে এই অমায়িক মহিলাটা এতো গম্ভীর কিভাবে হন! ভেবেই পায়না তমা!। সে বুঝল আজ রেনুর মুড অফ,একটু পর ধীরে ধীরে বলল,মা আমি কি আপনাকে একটু হেল্পও করতে পারিনা?!
নাহ! লাগবে না মা, কিন্তু তারপর ওর মুখ দেখে বললেন, আচ্ছা, তুমি শুধু ফল গুলো কেটে সাজাও।
জ্বী, বলে ফল কাটতে কাটতেই বলল, মা আপুদের সাথে কথা হলো,বড় আপুর আসতে দুপুর হবে,ছোট আপুর পৌঁছুতে আর ঘন্টাখানেক।
হুমম, নিলয় ফিরল?
না মা!ফোনে কথা হলো, বলল আসছে।
আচ্ছা, শোনো তমা,তোমার বাবা(শ্বশুর)কে নাস্তাটা দিয়ে এসোতো মা, নিলয় ফিরলে তখন আবার বাপ-বেটায় একত্রে বেরুবে,তখন আর ওনার নাস্তা খাওয়া হবেনা!
জ্বী, বলে ট্রে নিয়ে বের হতে হতে তমা রেনুর গলা শুনল, বৌমা, উনি খাবার আগের ঔষধটা খেয়েছেন কিনা একটু জিজ্ঞেস করে নিও! খুব ভুলে যান আজকাল!
জ্বী, মা, করব।
তমার বিয়ের ছয়মাস হলো, এর মধ্যেই সে আবিষ্কার করেছে তার শ্বশুর-শ্বাশুড়ির মানে নিলয়ের বাবা-মায়ের মধ্যে একটা খুব গভীর শ্রদ্ধাময় ভালোবাসার সম্পর্ক। এরা পরস্পরকে ‘আপনি’ করে বলে।অথচ বন্ডিং আশ্চর্যরকম সুন্দর!একদম দূরত্ব নেই।প্রথম দিকে ওর খুব অবাক লাগত ব্যাপারটা,আজকাল নর্মাল।
বাবাকে নাস্তা দিয়ে আবার রেনুর কাছে, ফিরল তমা,দেখল, তিনি চুলার ওপর হাড়িতে লালচে তরল ঘন ঘন নাড়ছেন, বলল, মা,আম-দুধের পায়েস আর পাটিসাপটা পিঠা করা হলো কিনা বাবা জানতে চাইছিলেন।
শুনেই রেনু তার স্বভাব সুলভ হাসি হাসি গলায় বললেন,হুম ‘আম-দুধের পায়েস’হয়ে গেছে,আর পিঠাও অল্প বাকি!বুঝলি তমা, এটা আজকের স্পেশাল আইটেম!
আম-দুধের আবার পায়েস হয়?! কখনো
শুনিনি তো?! তমার কন্ঠে বিষ্ময়!
হয়, আমি বানাই!খেয়ে দেখিস! তাপর আনমনেই বললেন, আপার খুব প্রিয় ছিলোরে!
তমা মনে মনে স্বস্তির শ্বাস ফেলল,যাক, মার মুড ঠিক হয়ে গেছে!
মন ভালো থাকলে তিনি তার একমাত্র ছেলের বৌকে ‘তুই’ করে বলেন! তমার খুব ভালো লাগে! আজন্ম মা-হীন সে! আর বাবাও মা’র শোকে উন্মাদ প্রায়!আজীবন চাচার উচ্ছিষ্টে প্রতিপালিতা তমা।আর এবাড়িতে এখন সব আছে তা, সব!
সে হেসে বলল, আচ্ছা মা,আজ কিসের অনুষ্ঠান এটা? আপুরাও আসছে?
কেন আমার মেয়েরা কি এ বাড়িতে এমনি এমনি আসতে পারেনা?!রেনু ভরাট স্বরে জানতে চাইলেন।
তমা জানে নিজের মেয়েদের অসম্ভব ভালোবাসেন রেনু,ওদের নিয়ে এমন কথা তার মোটেই পছন্দ না।সে তাৎক্ষণিক শুধরে
নিল নিজেকে, বলল, না না মা তা নয় এমনি জানতে চাইছিলাম জাস্ট, আর কিছুনা!
রেনু ওর দিকে চেয়ে হেসে ফেললেন,তারপর স্বাভাবিক গলায় বললেন, হুমম, আজ একটা খাওয়াদাওয়া হবে আয়োজন করে খাওয়াদাওয়া।
ও! বলে চুপ করল তমা।
যদিও ওকে কখনো রান্নাঘরের কাজ করার জন্য অতটা চাপ দেননা রেনু,ও এখনো পড়াশোনা করছে বলে, টুকটাক যা করে,সে নিজেই আগ্রহ নিয়ে করে,তবু এমন একটা পারিবারিক আয়োজনে ঘরের বৌকেও মোটেই কাজ করতে দেয়া হচ্ছেনা কেন, এই বিষয়টা সে বুঝতে পারছেনা, অগত্যা আবারও শ্বাশুড়ির দিকে চাইল, খুব স্বাভাবিক গলায় বলল,আচ্ছা মা,
আজ এই এতো আয়োজন কিসের জন্য?
আজ তোমার শ্বাশুড়ির জন্মদিন!রেনুর গলা স্বাভাবিক।
তমা জানে রেনু মাঝেমাঝে হেঁয়ালী করে কথা বলেন,সে হেসে বলল,
ওহ্ মেনি মেনি হ্যাপি রিটার্নস অব দ্যা ডে, মা, হ্যাপি বার্থডে টু ইউ।
রেনুও হেসেই জবাব দিলেন, থ্যাংস মা,তবে জন্মদিন আমার না আমার বড় বোনের!
তমা জানে রেনুর বড় বোন বেঁচে নেই,অনেক আগেই মারা যান। নিলয়রা সবাই তাকে বড়মা বলে ডাকে,তিন ভাইবোনই অসম্ভব শ্রদ্ধা করে তাকে। কিন্তু আজ এক বোনের প্রতি অন্যবোনের এত গভীর ভালোবাসা দেখে সে মুগ্ধ।রেনুর প্রতি তার আরও একবার গভীর শ্রদ্ধাবোধ হলো মনেমনে,গত ছয় মাসে যতই দেখছে ততই তার ভালো লাগছে এই আটপৌরে প্রৌঢ়াকে, সঙ্গে নিলয়, বাবা,আপুরা,সবাইকে!
সে গলায় দরদ ঢেলে বলল,ওহ্ সো স্যাড। এনিওয়ে, মা, আন্টি কি ছোট বেলায়ই মারা যান? মানে…
নাহ্ ওর ছোট মেয়েটার জন্মের সময়!
ওহ্, তো তিনি বেঁচে থাকতেও কি সবসময় এভাবে সেলিব্রেট হতো?
নাহ্ এসব হতোনা! তখন জন্মদিন বলে যে কিছু পালন করা হয় তাই জানতাম না!
বাচ্চাদের আব্দার এটা! আপাকে একটু আনন্দের সাথে মনে করা,দোয়া করা, মরব তো সবাোোই, শুধু কষ্ট পেলে হবে?!
তমা হেসে ফেলল, তাও ঠিক, তারপর বলল, আচ্ছা মা আন্টির বার্থডে এখানে সেলিব্রেট হয় কেন? মানে এটাতো ওনার বসায় হবার কথা তাইনা?ওনার শ্বশুর বাড়ি…কিন্তু এটাতো আপনার বাসা, আর আপনি এখানে এভাবে প্রতিবছর করেন, বাবা কিছু বলেন না? মানে বলছিলাম যে…তমাকে মাঝপথে থামিয়ে দিলেন রেনু,
বললেন, ওর বাসায়ইতো হচ্ছে মা! এটাতো বড় আপারই বাসা,ওর ই শ্বশুর বাড়ি, আমারও, আর তোমার শ্বশুর মানা করবেন কেন?! নিজের স্ত্রীর জন্য একটু দোয়া আর ছোট্ট একটা পারিবারিক আয়োজন হবে, তার মেয়েরা আসবে,এর মধ্যে মানা করার কি আছে? আর তুমি সেই তখন থেকে আপাকে শুধু আন্টি আন্টি করছ কেন?! বললাম না উনি তোমার শ্বাশুড়ি?!অবশ্য আন্টিও একেবারে ভুল না,নিলয়ের খালা হিসাবে ওটাও ঠিক আছে, তবুও শুদ্ধ না, তাই না বলাই ভালো!ওরা সবাইতো বড় মা বলে,তুমিও বলো, কেমন?কথাগুলো বলে আবার নিজের কাজে মন দিলেন তিনি যেন কিছুই হয়নি।
এদিকে তমা স্তব্ধ, বিমুঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে।তার মাথাটা ভোঁ ভোঁ করছে, এসব কি শুনছে সে?! এই পরিবারটাকে এতদিন এত ভালো দেখেছে সে অথচ তলে তলে এরা এতবড় মিথ্যুক?! এত বড় ঘটনাটা দিব্বি চেপে গেছে! ছিঃ! সে আমতা আমতা করে বলল, ক…ক্কি…কি বল্লেন মা?!বুঝলাম না!
রেনু ওর বিমুঢ়তায় ওর চেয়ে বেশি অবাক হলেন, অবাক কন্ঠে বললেন, কেন? তুমি জানোনা?! তোমার চাচীতো সব জানতেন, তোমাকে বলেননি?!
তমা এখনো নিশ্চল! দুটো কথাই প্রচন্ড ধাক্কা দিয়েছে তাকে।রেনু তখনও বলে চলেছেন, আপার মৃত্যুর পর তোমার বাবা(শ্বশুর)র সাথে আমার বিয়ে হয়, এ কথাটা আমরাতো তোমাদের কাছে লুকাইনি মা! আমি নিজে তোমার চাচীকে বলেছি এসব! তিনিও আমাকে বলেছিলেন যে এতে তোমার কোন সমস্যা নেই,তুমি রাজি, তখনিতো নিলয় আর তোমার বিয়েটা হলো! তমা বিমুঢ় গলায় বলল, আপুরা জানে?! নিলয়?
হ্যাঁ জানে। কেন জানবে না?! রেনুর কন্ঠ খুব স্বাভাবিক।
জবাবে এক কঠিন নীরবতা তমাকে ছেকে ধরল,কিন্তু রেনু জানলেনও না,রান্না নামিয়ে বের হলেন, নিলয়ের বাবাকে জরুরী কি যেন বলবেন তাই।
তমা তখনো ঠায় দাঁড়িয়ে।
একটু পরে তমা টলমলো পায়ে নিজের ঘরের দিকে গেল,মাথাটা কাজ করছে না তার, নিলয়ের বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী হলেন রেনু, নিলয়ের মা,আর প্রথম জন ওর আপন খালা, আর নিলয়ের বড় দুই বোন তার মেয়ে মানে ওরা হয়তো নিলয়ের কাজিন হতো, কিন্তু এখন ওর সৎ বোন?! আর এতবড় সত্যি কথাটা ওর চাচী জেনেও জানায়নি তাকে?!কেন?! তার হঠাৎ মনে হলো, চাচী আসলে ওর বিয়ে দেননি, আপদ-বিদায় করেছেন! ছি!
হঠাৎ তার সব রাগ গিয়ে জমল নিেজর বাবা-মার উপর! এভাবে তাকে অনাথ করে ফেলবার জন্য যেন ওরাই দায়ী!অনাথ না হলে কি চাচী তাকে এমন ফালতু জায়গায় এনে ফেলতে পারতো? ককখনো না!
একবার তার রাগ হলো নিলয়ের উপর! প্রচন্ড রাগ! বিয়ের আগে ক’টা দিন কত কথা বলল, অথচ এতবড় সত্যিটা কি সুন্দর চেপে গেছে! এমনকি গত ছয় মাসেও কিছুই বলেনি! অথচ রোজ নানা বাহানায় হাজার বার তাকে বোঝায় যে তমাকে সে অসম্ভব পছন্দ করে!এর নাম ভালোবাসা?! ছিহ্! যত্তসব ন্যাকামি!
কত্তবড় চিটিং!
ভাবতে ভাবতে পরক্ষনেই তার মনে হলো, না এই পরিবারটার কোন দোষ নেই, ওরা কেউ জানেই না যে তমা এসব কিছুই বিয়ের আগে শোনেনি,সব চালাকি আসলে চাচীর! ছি! কি জঘন্য তিনি! তমাকে কিছুই বলেন নি! জানেন, এসব জানলেএমন পরিবারে বৌ হতে মোটেই রাজি হতোনা তমা! হঠাৎ চাচীর ওপর প্রচন্ড মেজাজ গরম হল তমার! ভাবল, এক্ষুনি কৈফিয়ত চাইবে সে! মা কে বলে এক্ষুনি একবার চাচার বাসায় যাবে সে! যেই ভাবা সেই কাজ।
রেনুকে বাসার ঘরেই পাওয়া গেল, তমার শ্বশুর আলম সাহেব,ওখানেই বসে টিভি দেখছেন,রেনু তার দুই হাতে পায়েস আর
পিঠা নিয়ে এলেন ওখানে,তারপর খেতে দিয়ে নিজেরা কথা বলতে লাগলেন।
তমা দরজা থেকেই দেখল আর শুনল, ওর তারা দু’জনেই আজকের আয়োজন নিয়ে কথা বলছেন,মায়ের দেয়া আম-দুধের পায়েস মুখে দিয়ে বাবা চোখ-বুজে ফেললেন,একটুপর চোখ খুলে বললেন, লা-জওয়াব! এভাবে বানান কিভাবে,বলেনতো?!
মা হেসে বললেন,জানিনা! এসব খেয়ে তারপর একবার আপনার ছেলেটাকে একটা ফোন করেন,বাসায় আসেনা কেন এখনো? নাকি একাই গোরস্তানে চলে গেছে, আপার কবর যেয়ারত করতে! সবসময়তো আপনাকে আর জামাইদের সাথে নিয়েই যায়! আজ যে কি হলো!
হুমম,ফোম করছি,খেতে খেতে বাবা জবাব দিলেন, বললেন, তারচেয়ে এক কাজ করি আমিও বের হই, ও তো ওখানে আসবেই, ইনশা আল্লাহ দেখা হয়ে যাবে! ওহ ভালো কথা,মেয়েরা কখন আসবে?জানেন কিছু?
বৌমা তো বলল, দুপুরে!
হুমম, আমি আসি, জামাইদেরও বলে দেই ওখানেই যাক। বলে খাওয়া শেষে টুপিটা মাথায় দিতেই তমাকে দেখে বললেন, আরে বৌমা নাকি? কিছু বলবে? এসো ভেতরে এসো, আর শোন মা, রেনুর কাছে এই পায়েসটা বানানো শিখে নিও,বেনুর খুব প্রিয় খাবার ছিল এটা,নিলয়েরও, এজন্যই আজকের দিনে বানানো হয়! বলে হেসে বের হলেন তিনি,উদ্দেশ্য নিজের একমাত্র পুত্র মানে দ্বিতীয় স্ত্রীর পুত্রকে সাথে নিয়ে প্রথম স্ত্রীর কবর যেয়ারত! তমা হা হয়ে সেদিকে চেয়ে রইল কেবল কি আশ্চর্য ভালোবাসা!!
দুপুরের দিকে নিলয়ের বোনেরা এলো,
নিরা এসে রেনুকে বলল, মা আমার পাটিসাপটা রেডি তো? এবার আবারও ক’টা বাসায় নিয়ে যাবো, ওবাড়ির সবাইকে খাওয়াবো, আমার মা বেস্ট বানায় এটা আবারও প্রুভ হবে!
আচ্ছা নিস,বেশিই আছে সমস্যা নেই।বলে হাসলেন রেনু!
তমাকে বললেন, বুঝলি মা, তোর ছোট আপুটা আর বড় হলোনা! এখনো ননদের সাথে টক্কর দেয় আমাকে নিয়ে! ওর মা ভালো না আমি ভালো…হি..হি..হি..
তমাও হাসল খানিক!
তারপর,
নিলা ঘরে ঢুকেই রেনুকে বলল, মা! ও মা! এই নাও তোমার স্পেশাল গিফট। চেরিফল খুঁজতে গিয়ে আমার তেরটা বাজার দশা, বাবাকে বললাম চেরিটা বাদ দেই, বলে উল্টা ধমক খেলাম,”তুই না পারলে আমি কিনে আনব! কিসমিস আর চেরি ছাড়া রেনুর পছন্দ হবেনা!” বোঝ অবস্থা! চেরি না হলে তোমার হয়তো চলে যাবে বাবার চলবেনা! ভাববে তোমার পছন্দ হচ্ছেনা! হি..হি.হি..!
রেনুও হেসে ফেললেন, জানিতো প্রতি বছর আমাকে এমন কিছু না কিছু লুকিয়ে গিফট করেন, আর তুই হলি তার সাগরেদ!
হুমম!বলে হাসিটা ফিরিয়ে দিয়ে এবার ছোট বোনের সাথে কথায় মাতলো! দুই বোনের যতশত কথা! এর কি শেষ আছে?!
তমা স্তব্ধ হয়ে দেখলো নিরাপি মানে নিলয়ের ছোট বোন তার সৎ মায়ের কাছে আব্দার করে যাচ্ছে, আর নিলাপি, মানে বড় বোনটা তার সৎ মায়ের জন্য নিজের হাতে বানানো কেক নিয়ে এসেছে! কেকের মধ্যে স্পেশালি চেরি আর কিসমিস দেয়া, তার সৎ মার পছন্দ বলে। আর এর মূল হলেন বাবা!
তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে গিফট করেছেন এই কেকটা! কি আশ্চর্য!
আর তাদের মা?! ” পাটিসাপটা ক’টাবেশি করে বানিয়ে পাঠিয়ে দেই, কি বলিস তমা?! মেয়েটা আবার কবে না কবে আসবে!”বলে হাসবেন্ডের দেয়া সৎ মেয়ের হাতে বানানো গিফট,ঐ কেকটা নিয়ে হাসতে হাসতে আবার রান্নাঘরের দিকে গেলেন।
তমা সকাল থেকেই ঐ বিষয়টা নিয়ে অনেক আপসেট, যদিও কেউ সেটা বোঝেনি, তবে এই দৃশ্য গুলো হঠাৎ তার মন ভাল করে ফেলল! বাইরে থেকে কেউ ভাবতেই পারবেনা এই পরিবারটা এমন আপন- পর মেশানো! এরা সবাই আপন!
এই তমা শোনো, এখানে বসোতো! এটা তোমার জন্য! বলে নিলাপি, মানে নিলয়ের বড় বোন, ওকে দুটো প্যাকেট ধরিয়ে দিল, হেসে বলল,তোমার পোস্ট ম্যারেজ গিফট! আমাদের গুল্টু টার বৌ না তুমি! ভাবলাম তুমি নতুন বৌ, শাড়ি দেই, পরে মনে হলো পরোতো ড্রেস, ওটাই দেই, পরে দুটোই কিনে ফেললাম…!
নিরা ওর কথা কেড়ে নিয়ে বলল, ভালো করেছ আপি, তমা,মাঝখান থেকে তুমি ডবল গিফট পেলে! হি…হি..হি.. দেখো পছন্দ হয় নাকি!আজ রাতে এগুলোই একটা পরো তুমি ।আর আমি তোমাকে সাজিয়ে দিব, কেমন?!
না না আপু কি দরকার এসবের?! তমার মাথায় আবার সকালের কথাগুলো ভর করছে, সে ইতস্তত বোধ করল!
এ্যাই মেয়ে! বড় কে?তুমি না আমি?!চুপচাপ নাও,বলছি !বলে কৃত্রিম রাগ দেখালো নিলা।তারপর হেসে বলল, চিন্তা করোনা, তোমাকে একা দেই নি, গুল্টুর জন্যও আছে!
নিরা হেসে বলল,হুমম, গুল্টুর টা আমি দিবো, আমারা দুই জনে তোমাদের দুইজনকে ভাগ করে নিয়েছি বুঝলে, হি…হি..হি..! তবে ওর ব্যাড লাক, শার্ট আর প্যান্ট, এক সেটেই দুটো, তাই একটাই, হি…হি..হি.. আচ্ছা ও কই?! ওহ্ বাবার সাথে নাকি?! হুমম তাই হবে!
তমা স্তব্ধতা নিয়ে সব শুনছে আর দেখছে, সে দেখল, আপুদের বোবিগুলোও খুব এনজয় করছে, নতুন মামির ঘর বেদখল হয়ে গেছ,ওটা এখন প্লে গ্রাউন্ড, ‘হাইড-এ্যান্ড -সিক’ খেলা চলছে সেখানে! নানাবাড়ি বলে কথা, আর মামার ঘর মানে মামাবাড়ির আব্দার!তমা কিছুটা বিরক্ত তবে ওদের ওপর না,চাচীর ওপর,ভেতরে ভেতরে চাচীর জন্য আগুন জমা হচ্ছে তার!
তবু সে চুপ।
তমা একসময় নিলয়কে ফিরতে দেখল, এতসব খেলনা নিয়ে ঢুকল নিলয়, ভাগনে ভাগনিদের জন্য,এসেই তমাকে বলল, কেউ আমাকে খোঁজেনিতো না?
সবাই খুঁজছে তোমাকে! আমিও।
হুমম! বাবা চলে গেছে তাইনা?! আর বলোনা, আসলে এসব আগেই কিনে রাখা উচিত ছিলো আমার বুঝলে! বাবুরা কতদিন পর এলো,আমারই ভুল! এবার বলো,তুমি কেন খুঁজছ?
একটা কথা ছিলো।
ওহ্! ওক্কে কিন্তু এখনতো বাবা আর দুলাভাইদের নিয়ে কবরস্থানে যাবো, এসে শুনি? রাতে?! তুমিতো জানোনা, বলি শোন, আজ সারাদিন অবসর নেই আমার বুঝলে? আজ বরং তোমার ছুটি, মা নিশ্চই রান্নাঘরে যেতে দেননি, তাইনা?!
আসলে মা এমনই, কিছু মনে করোনা! আর রাতে এসে শুনব ইনশাআল্লাহ, প্রমিস! নাউ সরি! ওকে?
ওকে!
তারপর একসময় বোন-জামাইদের সাথে সেও বাবার কাছে চলে গেল!
দুপুরবেলায় ‘বড়মার’ জন্য দোয়া করার পর খুব আয়োজন করে খাওয়া হলো।বাবা একসময় কথায় কথায় তমাকে বললেন, এই দোয়াটাই পৌঁছবে ওখানে, খোদার কাছে, ওটার বড় দরকার মা, বুঝলে?
জ্বী!
আড্ডা আর আনন্দে বিকেল পেরুল। বাবা মা এখন, নেই তবে বাকিদের আড্ডা,সময়টা বেশ কাটল, তমাও সবার সাথে আড্ডায় ডুবে গেল,কথায় কথায় সে জেনে গেল নিলয়ের বোনদের হাসবেন্ডরাও ব্যাপারটা জানেন। তারা তাদের বিয়ের আগে থেকেই জানেন, যেভাবে তমাদেরও বলা হয়েছিল,সেভাবে তাদেরও বলা হয়! তারা প্রতিবছরই বড় মার জন্ম আর মৃত্যু দিনে আসেন এখানে!
বড় দুলাভাই মাথা নেড়ে নেড়ে বললেন, ধর্ম বলো,সমাজ বলো কোথায় এতে সমস্যা?আমিতো কোথাও আপত্তি বা সমস্যা দেখিনা,বরং বেশ ভালো! স্মার্ট ডিসিশন। মা যে এভাবে মিশে গেছেন এটাই হলো আসল কথা! ভাবা যায় নিলা আর নিরার কি হতো না হলে?
ছোট দুলাভাই হেসেই বললেন, ভাগ্যিস বাবা বিয়েটা করেছিলেন, নয়তো আমরা এমন একজন শাশুড়ি আর এমন পার্মানেন্ট শালাটা কোথায় কোথায় পেতাম হামিদ ভাই! বলেন! হা…হা..হা..
নিলয়ও হেসে বলল,শালা পেয়েছেন এবার পকেট ঝাড়েন!আপুরাও ওকে সাপোর্ট দিলো পুরোপুরিভাবে।তাতে তমা আর নিলয় মিলে মোটা দুটো অংক ঝেরে ফেলল দুই দুলাভাইয়ের পকেট থেকে!
ফলাফল,বিকেলে আবার এক পসলা হাসি-গল্প আর স্ন্যাকস!অবস্থা এমন হলো তমার আর তার চাচীর কাছে যাবার কথা ওর মনেই রইল না!
সন্ধা নাগাদ পুরো বিষটায় নতুন মাত্রা এলো, নিলা আর নিরা মিলে তমাকে সাজালো, মোটামুটি নতুন বৌ লুক! সে এক মজার অভিজ্ঞতা, ওকে নিলার গিফট করা শাড়ি আর জামার মধ্যে জামাটা পরানো হলো, ছোট্ট ঘোমটা, সাথে নিরার হাতের মেকআপ, অবশ্য হালকা!তমার জন্য আরেকটি অপ্রত্যাশিত আনন্দঘন অভিজ্ঞতা!নিলয়ও তার পাওয়া গিফট পরল, তারপর ছাদ বারান্দায় জমজমাট আরেক আয়োজন।
নিরা আর নিলা আর বাকিরা এবার বাবা আর মা কে ঘিরে ধরল, বড়মার গল্প বলতে হবে, যেহেতু বড়মাকে তারই সবচেয়ে বেশি দেখেছে তাই তাদেরই বলতে হবে, সাথে নিজেদের গল্পও।
যেহেতু গুল্টুর বৌ কিচ্ছু জানেনা তাই সব শুরু থেকে বলতে হবে,বড় মার শৈশব থেকে!
রেনু শুরু করলেন, সেই স্কুলে নিজে নিজে বেনী করতে গিয়ে ছোটবড় বেনী নিয়ে লজ্জা পাওয়া থেকে আপার ছোট মেয়েটার জন্ম পর্যন্ত সব বললেন তিনি। শেষে কাঁদলেন অঝোরে! আপাটা বড় অবেলায় চলে গেল! এত বছরেও সে দুঃখটা যায়নি তার! আলম সাহেবও চোখ মুছলেন নিজের অজান্তেই। তাকে অনুরোধ করা হলো রেনু আর তার গল্পটা বলতে, তার অপারগতা ঢাকলেন রেনু, বললেন, তাকে বলে লাভ নেই,পুরোটা আমিই বলছি শোন,
“আপা মারা যাবার পর এখানে এসে আমি আর মা থাকলাম কিছুদিন, নিলার তখন বছর তিনেক,নিরাটার মাত্র পনের দিন, দুজ’নই খুব বেশি ছোট, এবাড়িতেও তেমন কেউ নেই, তোদের দাদী নিজেই রোগী, ভাবলাম বাচ্চা গুলোকে আমাদের ওখানে নিয়ে যাই,নিয়ে গেলাম, বছর খানেক এমনি চলল, এমন অবস্থা হলো ওরা আমাকে আর আমি ওদের ছাড়া থাকব এটা ভাবতেও পারিনা তখন!
এরপর আমার বিয়ের তোরজোড় শুরু হলো,কিন্তু বাচ্চাদুটোকে নিজের কাছে রাখব বললেই ভেঙ্গে যেত সেটা!
তারপর একরাতে মা আমাকে ধরে সে কি কান্না! জিজ্ঞেস করলাম,কি হয়েছে?
বলল,আপার মেয়েরা অসুস্থ্য, নিলাটা খেয়ে না খেয়ে আধমরা! নিরা, ঐটুকু বাচ্চা, তারও কান্না থামেছে না!ডাক্তার পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। শুনে কি যে খারাপ লাগলো। আবারও ওদের নিয়ে গেলাম।
এরপর একদিন তোদের দাদী এলেন আমাদের বাসায়,কি হলো না হলো জানিনা, শুধু মা আর বাবা মিলে অনুরোধ করলেন,
আমি যেন এই বিয়েটা করি,তোদের দাদীর খুব ইচ্ছে,একসময় বুঝলাম দুটো পরিবারই এটা চায়! আমি আর কি বলবো?!মেয়ে দুটোর জন্য মনও পড়ে আছে!
তারপর তোদের নানা-নানী আর দাদী মিলে আমাদের বিয়েটা দিয়ে দিলো।
উনি খুব মানা করলেন,আমাকেও বললেন, তবু লাভ হয়নি, কেউ শোনেনি ওনার কথা হি..হি..হি..! ওনাকে শ্রদ্ধা করতাম খুব! বিয়ের আগে আমি ওনাকে আপনি করেই বলতাম,বিয়ের পরও বলি, সম্মান তো যায়না! ভালোবাসলে ওটা আরও বাড়ে। উনি আগে বলতেন না এখন বলেন!”
কথা শেষ, রেনু উঠে রাতের খাবারের ব্যবস্থা
করতে চলে গেলেন, মেয়েরা ফিরবে আবার!
এবার তমাও সোৎসাহে তাকে হেল্প করতে লাগলো! মা-বাবা, এই পরিবার সবকিছু ভালোবেসে ফেলেছে সে!অন্যরকম এক মায়াময় ভালোবাসা! সে বুঝল, বড়মাকে মা আর বাবা দুজনেই দুজনের জায়গা থেকে ভালোবাসেন,তাইতো তার জন্ম মৃত্যু সব মনে আছে তাদের, এজন্যই মা নিজের হাতে সব আয়োজন করেন, আপুরাও রেনুকে তাদের ‘মা’ আর নিলয়কে আপন ভাই-ই ভাবে, তাইতো সেই কেক আর আব্দার, সাথে ভালোবাসার ঐ গুল্টু ডাক আর গিফট নামে বাক্সবন্দি ওগুলো হলো ‘স্নেহ’। বাবা তার বেনুকে ভালোবাসতেন, তাই মনে রেখেছেন,আজও কবরে তার বেনুর ঐ দোয়াটাই দরকার!
আর রেনুকে ভালোবাসেন বলেই, সেই সারপ্রাইজ গিফট, আর তার কাজ তার চোখে ‘লা জওয়াব’!
অসাধারণ শুদ্ধতম এক ভালোবাসা এটা যার খোঁজ সবাই চায় কিন্তু পায়না!
আর নিলয়? সারাদিন কখনো একমাত্র শ্যালক বা একমাত্র মামা হয়ে ঘুরে বেড়াতেই তার অনেক আনন্দ! সৎ না আপন মামা! মা তো বটেই, বড়মারও ছোট ছেলে ও।
আর বাবা এভাবে বিয়েটা করে অন্যায়তো কিছু করেননি,মা-ও না! পাপহীন নির্মল একটা সম্পর্ক তাঁদের! বড়মার মৃত্যুর ঐ বাস্তবতায় তখন এটাইতো স্বাভাবিক ছিল। আর তারপর আজও তারা সুখী, এইতো সবতো ঠিকই আছে!
তমার মনে হলো,রেনুকে ভাবলে বারবার বিষ্ময় আর শ্রদ্ধা হয়,বড়মার পরিবারটাকে তিনি যেভাবে সামলেছেন! আশ্চর্য!
সে ভেবে নিয়েছে তার এসব আগে থেকে না জানার কথাটা সে এদের বলবে না, কারণ এরা লুকায়নি! এদের দোষ নেই। যদিও চাচীর ওপর ওর সারাদিন খুব মেজাজ খারাপ ছিল, তবে সে এখন খুশি! আজ সারাদিন সে শিখেছে অন্যকে আপন করে নেবার শিক্ষা! এই পরিবারটাতে ‘পর’ বলে কেউ নেই! চাচীর উদ্দেশ্য যা-ই হোক, খোদার ইচ্ছা ভিন্ন! তিনি ওকে একটা অদ্ভূত সুন্দর পরিপূর্ণ পরিবার দিয়েছেন! যা তার আগে কখনো ছিলোনা! এর চেয়ে বড় আর কি কোন পূর্ণতা আছে নাকি তার নিজের জন্য?!
চাচীর ওপর রাগ কমে এসেছে তার! যদিও তার অপরাধ ক্ষমাহীন! তবু সে চাচীকে মনেমনে ধন্যবাদ দিল,সত্যিটা লুকানোর জন্য! ওটা জানলে হয়তো কিছুতেই আর তার এবাড়িতে আসা হতোনা!এই এত চমৎকার মানুষগুলোকে কখনো দেখাই হতোনা! তাতে হয়তো অসম্ভব ভালো কিছু হারতো সে, যা হারায়নি!
তাই,আপুরা চলে যাবার পর নিলয় যখন বলল, কি যেন জরুরি কথা বলবে বলছিলে তখন?!
বলো!
তমা বলল, নিলয়,আমি খুব সিম্পল একটা মেয়ে, রূপ বা গুন কোনটাই আমার নেই, বাট ফ্রম টুডেআ’ম সো হ্যাপি! আলহামদুলিল্লাহ!থ্যাংস টু আল্লাহ এ্যান্ড থ্যাংস টু ইউ টু ফর থ্যাংস ফর সিলেক্টিং মি এ্যাজ ইওর লাইফ পার্টনার, এ্যান্ড মেকিং এ মেম্বার অব ইওর সো স্পেশাল ফ্যামিলি! নো, নো, এ্যাকচুয়েলি মাই ফ্যামিলি!
এটুকুই বলতে চেয়েছিলাম,আর কিছুনা!
শুনে নিলয় হেসে ফেলল,বলল, আমি না,তোমাকে মা সিলেক্ট করেছেন,আর তুমি অসুন্দর না তমা ! আমার চোখে তুমি সুন্দর! কারণ তুমি আমার মায়ের সিলেকশন!
বাই দ্যা ওয়ে, এই ড্রেসটা মানিয়েছে তোমাকে!
তমা ছেলেটার কথা শুনে মনেমনে ভাবছে সত্যি নিলয় অসাধারণ! আপুরাও! এরা সবাই এদের গুল্টুর বৌকে ভালোবেসেছে! এবার গুল্টুর বৌয়ের পালা! সে হেসে জবাব দিল, থ্যাংস গুল্টু!
নিলয় অবাক চোখে চেয়ে বলল, কি বললা?
তমা জোরে হেসে ফেলল, বলল না কিছুনা!
নিলয়ও হেসে ফেলল!
তারপর রেনুর কাছে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, মা, লাভ ইউ!
রেনু অবাক,কি হলোরে তোর?!
তমা হাসল শুধু বলল কেন শুধু একটা মেয়েই বুঝি তার মা কে ভালোবাসতে পারে? কোন বৌ বুঝি তার শাশুড়িকে ভালোবাসতে পারেনা?!
কেন পারবেনা?! অবশ্যই পারে,চাইলেই ভালোবাসা যায়, আর ভালোবাসলেই ওটা পাওয়া যায়! আমিও ভালোবাসিরে তোকে! শুধু মা তার মেয়েকে না,শাশুড়িও চাইলে তার বৌকে ভালোবাসতে পারে! বলে হেসে ফেললেন তিনিও।
তমা বুঝল,রেনু অসাধারণ বুদ্ধিমতি আর স্মার্ট নারী! তিনি ঠিকই ধরেছেন, সকাল থেকেই তার জীবনের ঐ অতীতটা তমা মেয়েটাকে ভেতরে ভেতরে কষ্ট দিচ্ছিল,যা এখন আর নেই!
।।শেষ।।
Facebook Comments
People Came Here By Searching :
Jokes, bangla golper boi, bangla jokes pdf, bengali jokes pdf, bangla jokes book pdf download, gopal bhanrer 111 hasir golpo, bangla jokes pdf free download, bangalir hasir golpo, bdjobs, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes app, school jokes, funny jokes dirty, jokes app, joke book, short funny jokes, jokes in english, dad jokes, funny jokes, jokes, jokes for kids, dirty jokes, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes dirty, short funny jokes, hilarious jokes, clean jokes, really funny jokes, good jokes, funniest jokes ever, funniest joke in the world, inappropriate jokes, short jokes, deez nuts jokes, blonde jokes, bad jokes, offensive jokes, pun jokes, mom jokes, little johnny jokes,
jokes dirty, hilarious jokes, jokes for adults, very funny jokes, funny jokes clean, seriously funny jokes, dad jokes, corny jokes, , seriously funny jokes, funny jokes clean, funny jokes dirty, i need a funny joke, very funny jokes in english, most hilarious joke, funny knock knock jokes, funny jokes for adults, , clean jokes that are actually funny, funniest clean joke ever, greek jokes clean, clean joke of the day, somewhat clean jokes, long clean jokes, edgy clean jokes, i need a funny joke, funny jokes for kids(10-11), sick kid jokes, funny jokes for kids: 100 hilarious jokes, funny jokes for kids(8-9), funny jokes for kids(10-11) in hindi, kids joke of the day, silly jokes, jokes and riddles, , silly jokes for adults, funny silly jokes, 25 silly jokes, crazy silly jokes, seriously funny jokes, very funny jokes, hilarious jokes, awesome jokes, Jokes, bangla golper boi, bangla jokes pdf, bengali jokes pdf, bangla jokes book pdf download, gopal bhanrer 111 hasir golpo, bangla jokes pdf free download, bangalir hasir golpo, bdjobs, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes app, school jokes, funny jokes dirty, jokes app, joke book, short funny jokes, jokes in english, dad jokes, funny jokes, jokes, jokes for kids, dirty jokes, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes dirty, short funny jokes, ilarious jokes, clean jokes, really funny jokes, good jokes, funniest jokes ever, funniest joke in the world, inappropriate jokesshort jokes, deez nuts jokes, blonde jokes, bad jokes, offensive , jokes, pun jokes, mom jokes, little johnny jokes

No comments:
Post a Comment