ডায়েরীর পাতাতে তরী ওর বিষাদিত সময়ের ঘটনাগুলো লিপিবদ্ধ করছিল।
হঠাৎ ডায়েরীর লিখাগুলোর দিকে তাকিয়ে কি মনে করে এক টানে পৃষ্ঠাটা ছিড়ে ফেলে দিল তরী।আবার লিখতে শুরু করল,
“ডানাগুলো হয়তো ছেটে ফেলে দেওয়া হয়েছে।কিন্তু আমার পা দুটো তো আছে। আমি আমার গতিতে আমার শক্তিতে ভবীষ্যতের পথে অগ্রসর হবো। মানুষরূপি কোনো পশুর সঙ্গ প্রয়োজন নেই আমার।”
সারাটা সন্ধ্যা ভরে তরী মনের এমন বহু বাক্য ডায়েরীর পৃষ্ঠার মাপকাঠিতে লিখে ভরাট করছে আবার লিখাটা পুনরায় দেখছে। লিখাগুলো দেখে আবার কি ভেবে পৃষ্ঠাগুলো ছিড়ে নিচে ফেলে দিচ্ছে।মনের ভেতরের চিন্তাগুলো ঠিক স্থির করতে পারছেনা।এমনসময় ঘরে শাহানা বেগম অর্থাৎ তরীর মা প্রবেশ করল।নিচে পড়ে থাকা শত কাগজের ছিড়া টুকরো দেখতে পেল।এটা তার মেয়ের দৈনন্দিন জীবনের একটি অভ্যাস হয়ে দাড়িয়েছে।দিনের বেশিরভাগ অংশ তরী তার ঘরে বসে ডায়েরীর পৃষ্ঠাগুলোর সাথে মনের কথাগুলো ভাগ করে।তারপর হঠাৎ করেই চিন্তাভাবনার পরিবর্তন করে ফেলে।তখন ডায়েরীতে থাকা লিখাগুলো ছিড়ে ফেলে দেয়।নতুন করে চিন্তাভাবনা করে আবার সেগুলো ডায়েরীর পাতাতে লিখে।এগুলো তিনি রোজই দেখেন।তাই কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়না তার মাঝে।আসলে প্রতিক্রিয়াটা সৃষ্টি হলেও বলার মত কোনো ভাষা তিনি খুঁজে পাননা।তাই আর কিছু বলেন ও না।ভাদ্র মাসের শেষের দিকে কিন্তু বর্ষণের তেজটা দেখে মনে হচ্ছে যেন আষাঢ়ের গর্জন চলছে। তরীর ঘরটা দক্ষিণকোণা।ঘরটাতে দুটো জানালা।একটা তরীর পড়ার টেবিলের সামনে অন্য একটা বিছানার পাশে।
তুমুল বৃষ্টির ঝাপটা তরীর বিছানা ভিজিয়ে দিচ্ছে,টেবিলের উপরে থাকা বইগুলো ভিজিয়ে দিচ্ছে।সেদিকে তরীর বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই।বিছানার ডান সাইডে পা দুটো ভেঙ্গে মুড়িয়ে বসে কোলের উপর বালিশ রেখে ডায়েরী লিখছে।ঘরে সন্ধ্যা বাতিটাও জ্বালেনি। মেয়ের উদাসীনতা দেখে মা বলল,
-“সন্ধ্যা ৬ টা বেজে ৪৫ মিনিট।পনের মিনিট আগে মাগরিবের আজান দিয়েছে।এখন পর্যন্ত ঘরের লাইটটাও জ্বালিসনি।এদিকে বাইরে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে সেই হুশটা কি তোর আছে?বিছানা, টেবিল বৃষ্টির ঝাপটা এসে ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে তরী!
মায়ের কথার আওয়াজ পেয়ে চিন্তার রাজ্য থেকে বেরিয়ে এলো তরী।মায়ের দিকে একবার তাকিয়ে মায়ের কথা শুনে জানালার বাইরে তাকাল।সত্যি বাইরে তুমুল ঝড় হচ্ছে।ঝড়ের রূপ দেখে ওর বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠলো।মনে পড়ে গেল গত বছরের সেই ভয়ংকর ঝড়ের রূপের কথা।যে ঝড়টা কয়েকটা মুহূর্তের ভেতরে ওর জীবনটাকে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে।যে ক্ষতি হয়ে যাওয়া অংশটুকুর মেরামত ও আজও করতে পারেনি।আজকের ঝড়ের রূপটা যেনো সেই রাতের ঝড়ের আর এক রূপ মনে হচ্ছে।দৌড়ে গিয়ে জানালাটা বন্ধ করে দিল।মেয়ের এমন আতংকিত চেহারা দেখে মায়ের কান্নায় কলিজাটা ছিড়ে আসতে চাইল।সেই রাতের পর থেকে মেয়েটা ঝড়-বৃষ্টি প্রচুর ভয় পায়।ভয়ে আতংকিত কন্ঠে তরী মাকে বলেই ফেলল,
-“আম্মু রাতে আমি একা থাকতে পারবোনা।আজকে তুমি আমার কাছে ঘুমাতে পারবে?
-“একা থাকবি কেনো?সাথে তো অথৈ থাকবে।ভয় পাওয়ার কি আছে?
-“না তবুও।তুমিও থাকবে আমার সাথে।
শাহানা বেগম আর কোনো কথা বাড়ালোনা।কিছুক্ষণ মেয়ের মলিন মুখের দিকে চেয়ে থেকে রুমের বাইরে চলে এলো।চোখজোড়াতে পানি টলমল করছিল।মেয়ের সামনে কাঁদতে চায়নি। তাই ছুটে রান্নাঘরে এসে মুখে শাড়ির আঁচল চেঁপে কাঁদতে শুরু করলো।পেছনে ছোটমেয়ে অথৈ এসে মায়ের কাঁধে হাত রাখলো।মেয়েকে দেখে দ্রুত চোখের পানি মুছে মেয়ের দিকে ফিরে তাকাল।
অথৈ বলল,
-“আম্মু নোমান ভাইয়া তোমার ফোনে ফোন করেছিল।বলল আপুর নাম্বার নাকি সুইচড অফ।আপুকে ফোন করতে বলেছে নোমান ভাইয়া।
-“ওহ্।আমার ফোনটা নিয়ে যা তরীর কাছে।ওকে বল নোমানকে ফোন করতে।
-“ঠিক আছে।
অথৈ তরীর রুমে গিয়ে দেখতে পেল তরী রুমে নেই।ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ দেখে বুঝতে পারল তরী ওয়াশরুমে ঢুকেছে। ওয়াশরুম থেকে তরী বের হওয়া মাত্র অথৈ মায়ের ফোনটা নিয়ে তরীর কাছে এগিয়ে গেল।বলল,
-“আপু নোমান ভাইয়া ফোন করেছিল আম্মুর ফোনে।
-“আম্মুর ফোনে,কেনো?
-“তোর ফোন নাকি সুইচড অফ।তাই আম্মুর ফোনে ফোন করেছে।তোকে ফোন করতে বলল।নে,ধর।
তরী অথৈ এর হাত থেকে ফোনটা নিয়ে নোমান এর নাম্বার ডায়াল করল।
নোমান তরীর ফোন পেয়ে কলটা কেটে দিয়ে কল ব্যাক করল।তরী ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে নোমান বলল,
-“ঐ উল্লুক!তুই কোন জগতে বাস করিস?তোর ফোন অফ কেনো?
-“জানিনা তো।ফোনে চার্জ নেই হয়তো।
-“কতদিন খোঁজ রাখিসনা ফোনের?
-“কাল রাত থেকে।
-“বাহ্।খুবই ভালো।মানুষ মরে গেলেও জানতে পারবিনা।
-“কে আর মরবে?
-“হুম।তাইতো,আমরা তো মানুষ না। আমরা মরে গেলে তাতে কারো যায় আসেনা।আচ্ছা ব্যাপার না।আমাদের যায় আসে যদি কারো খোঁজ না পাই।যা বলার জন্য ফোন দিয়েছি।কাল সকাল ১০ টায় ক্লাস আছে।ক্লাসটা বেশি ইম্পর্টেন্ট নয়।স্টাডিটা ইম্পর্টেন্ট।সকাল ৯ টায় স্ট্যাটিস্টিক আর দুপুর ১ টায় এ্যাকাউনটিং আছে।সকাল সাড়ে আট ঘটিকার ভেতরে কলেজ ক্যাম্পাসে এসে হাজির হবেন।মনে থাকবে?
তরী আস্তে করে জবাব দিল,
-“হুম।
-“ঠিক আছে।মনে থাকলেই ভালো। রাখছি।
ছোটবোন,বাবা-মায়ের সাথে রাতের খাবারটা সেড়ে তরী রুমে এল।রুমের এসে পড়ার টেবিলের সামনে জানালার দিকে চোখ গেল।সন্ধ্যার সময় এই জানালাটা বন্ধ করা হয়নি।জানালার কাছে এগিয়ে গেল বন্ধ করার জন্য। তখনও বাইরে বৃষ্টি নামছে কিন্তু বৃষ্টির জোড়টা কম।জানালা বন্ধ করার সময় তরীর কাছে মনে হল জানালা থেকে ঠিক চার পাঁচ হাত দূরত্বে কারো ছায়ামূর্তি দেখতে পাচ্ছে।ছায়ামূর্তিটা দেখে ওর আত্মাটা কেঁপে উঠলো।ভয়ে চোখদুটো বন্ধ করে চিৎকার দিয়ে উঠল তরী।চিৎকারের আওয়াজ পেয়ে তরীর বাবা,মা,বোন ছুটে এল তরীর রুমে।বাবা বলল,
-“কিরে!কি হয়েছে তরী?
তরী বাবার কন্ঠ শুনে চোখটা খুলে বাবার দিকে একবার তাকিয়ে জানালার বাইরে তাকাল।কিন্তু তখন আর কোনো ছায়ামূর্তি দেখতে পেলনা তরী।বাবা-মা আবারো জিজ্ঞেস করল,
-“তরী?চিৎকার করলি কেনো?কি হয়েছে?
-“না,আসলে মনে হল জানালার ওপাশে কেউ দাড়িয়ে ছিল।তাই দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
তরীর কথাগুলো শুনে সবার আর বুঝতে বাকি থাকলনা যে ওটা তরীর চোখের ভুল ছিল।প্রায় ঝড়-বৃষ্টির রাতেই তরী এমনকিছু দেখে আর সেটা দেখে ও ভয় পায়।কিন্তু সেটা তরীর সম্পূর্ন মনের ভুল থাকে।তাই বাবা আর কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।মা বলল,
-“জানালাটা বন্ধ করে দিয়ে শুয়ে পড়। আমি খাবারগুলো ফ্রিজে তুলে আসছি। আর অথৈ তুই আজ তোর রুমে গিয়ে ঘুমা।
-“তুমি আপুর কাছে থাকবে?
-“হ্যা।
-“আচ্ছা ঠিকআছে।
সকাল আটটা বেজে গেছে।তরী এখনো বিছানায়।মা বেশ কয়েকবার ডাকার পরও তরী ঘুম থেকে উঠলোনা।কিছুক্ষণ পর রুমে অথৈ এল।তরীকে বলল,
-“এই আপু।তাড়াতাড়ি উঠ।নোমান ভাইয়া এসেছে।
-“নোমান এসেছে?
-“হ্যা।বাইরের রুমে বসে আছে।তোকে ডাকতে বলল।
-“আচ্ছা যা।বল আসছি।
-“হুম।তাড়াতাড়ি আয়।
তরীর মা নোমানকে এত সকালে আসতে দেখে বলল,
-“আজ এত সকালে এলে যে?কোনো কাজ আছে?
-“কাজ তো আছেই আন্টি।আপনার মেয়েকে বলেছিলাম সকাল সাড়ে আটটায় যেন ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছায়। আমি তাকে সাতটা থেকে একনাগাড়ে ফোন করে যাচ্ছি।কারণ আমি জানি ও খুব অলস।তাই তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওকে না জাগালে স্টাডি শেষ হয়ে গেলে তারপর কলেজে এসে পৌঁছাবে। কিন্তু আপনার অলস কন্যা তো ফোন রিসিভ করছেনা।বুঝলাম সে এখনো বিছানাতেই আছে তাই তাকে ঠ্যালা দিয়ে বিছানা থেকে উঠানোর জন্য চলে এলাম।
-“ঠিকই বলেছ।এতো পরিমাণ অলস মেয়েটা।সব কাজেতেই ঢিলামিলি ওর। আমি সেই সকাল থেকেই ডাকছি ওকে। উঠার কোনো নাম গন্ধই নেই।আচ্ছা ও ফ্রেশ হয়ে আসতে আসতে তুমি নাস্তা করে নাও।
-“না আন্টি।আমি নাস্তা করেই এসেছি। আমি খুব ভোরে উঠি তো।তাই খুদাও তাড়াদাড়ি পায়।
নোমানের কথার মধ্যেই তরী এসে হাজির।তরীকে দেখে নোমান কিছুক্ষণ তরীর দিকে চেয়ে রইল।তরী নোমানকে বলল,
-“নাস্তা করেছিস?
-“হুম।
-“ঠিকআছে চল।
তরীর মা তখন টেবিলে খাবার সাজাচ্ছিল।তরীর বেরিয়ে যাওয়ার কথা শুনে বলল,
-“চল মানে।সকালের নাস্তাটা কি করা লাগবেনা?
-“দেরী হয়ে যাবে আম্মু।এসে খাব।
-“এসে খাবি কি করে?স্যারের কাছে স্টাডি শেষ করার পর দুইটা ক্লাস করতে হবে।যা খেয়ে নে।আমি ওয়েট করছি।
নোমানের কথা শুনে তরী জলদি করে নাস্তা সেরে নিল।হাঁটতে হাঁটতে দুজনে সামনের মেইন রোডের দিকে আগাল। ওখান থেকে অটোতে উঠে বাইতুল্লামান(অনার্স শাখা)যাবে।ফরিদুপর রাজেন্দ্র কলেজের ফিন্যান্স বিভাগের ২য় বর্ষের স্টুডেন্টস ওরা।তরী আর নোমানের বাড়ি ঝিলটুলিতে।তাই কলেজ যাওয়ার পথে নোমান তরীকে রিসিভ করে নিয়ে যাচ্ছে।অটোতে উঠার পর তরী আর নোমান দুজনেই চুপচাপ।কাল রাতে অনেক বৃষ্টি হলেও সকাল থেকে কেমন ভ্যাপসা গরম পড়ছে।ভাদ্র মাসের এমনই দশা।এই বৃষ্টি তো এই গরম।নোমান একবার তরীর মুখের দিকে তাকাল।এমন ভাবে তরী বোরকার সাথে নিকাব পড়েছে যেন মনে হচ্ছে চোখ দুটোও ঢেকে যাবে।নোমান হালকা ভাবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনেমনে ভাবতে থাকল,
-“কিভাবেই না তরীর জীবনটা ওলোট পালোট করে দিল জানুয়ার টা।আজকে মেয়েটা শান্তি করে নিঃশ্বাসটাও নিতে পারেনা।মুখ লুকিয়ে চলতে হয় সমাজের সামনে ওকে।
অনার্স শাখাতে নেমে নোমান তরীকে নিয়ে পল্লব স্যারের স্টাডি রুমে ঢুকলো। নোমানের সাথে কালো বোরকা পরিহিতা মেয়েকে দেখে নোমানের গার্লফ্রেন্ড অধরা সহ নোমানের বাকি বন্থুরাও বেশ অবাক হলো।নোমান স্টাডি করতে এসে সবসময় অধরার পাশেই বসতো।কিন্তু আজ তরীকে নিয়ে অধরার পাশের বেঞ্চটাতে গিয়ে বসল।ইতমধ্যে নোমানের কয়েকটা বন্ধু নয়ন,সৌরভ নোমানকে নিয়ে ফাজলামি, হাসাহাসি,দুষ্টুমি করে কথা বলা শুরু করেছে।তরী সেটা বুঝতে না পারলেও নোমান তো ঠিকই বুঝতে পারছে।নোমান শুধু ওদের দিকে চোখগুলো বড় বড় করে তাকাচ্ছে।আর চোখের ইশারায় ওদের থামতে বলছে। অধরা নোমানকে তরীর পাশে বসতে দেখে একটু রাগ হলো।তাই নোমানের দিকে অধরা আর ফিরে তাকালোনা।পল্লব স্যার স্ট্যাটিস্টিক পড়ানো শুরু করে দিয়েছে।পড়ানোর প্রায় পনের মিনিট পর আকাশ মানে নোমানের আর এক ফ্রেন্ড আসলো।সিট কোথাও খালি না পেয়ে হুট করেই আকাশ তরীর পাশে গিয়ে বসে পড়ল।তরী মাঝে কিছুটা দূরত্ব রেখে সরে গিয়ে বসল।আকাশের কাছে তরীর এই ব্যবহারটা একটু খারাপ লেগেছে।স্টাডি শেষ হলে নোমান তরীর সাথে ওর সব বন্ধুদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।
অধরা জিজ্ঞেস করল,
-“ও….এই হচ্ছে তরী?তোমার বেস্টি?
-“হ্যা।ওর কথাই তোমাকে বলেছিলাম।
আকাশ এসে নোমানকে বলল,
-“অধরাকে বলেছিস আমাদের তো বলিসনি দোস্ত যে তোর বেস্টি আছে।
-“তোরা আমার গার্লফ্রেন্ড হয়ে যা তোদেরকেও এরপর থেকে সব জানাব।
-“জানানোর ইচ্ছা থাকলে গার্লফ্রেন্ড হতে হয়না।তো তোর বেস্টি কি বোবা? আমরা তাকে নিয়ে তার সামনে এত কথা বলছি কিন্তু সে একদম স্ট্যাচু হয়ে দাড়িয়ে আছে।
আকাশের কথা শুনে অধরা,নয়ন,সৌরভ সবাই একটু হেসে দিল।তরী এতে একটু আনইজি ফিল করল।তারপর তরী আকাশের উত্তর দিল,
-“বোবা মানুষ কানে শুনতে পায়না। কিন্তু আমি আপনাদের সব কথাই শুনতে পাচ্ছি।আর এখন সেই কথার উত্তর ও দিচ্ছি।
-“আপনি?নোমান তুই কি তোর বেস্টিকে এটা বলেছিস আমরা তোর বড় ভাই?
-“দেখ আকাশ এভাবে একজনের প্রতিটা কথার খুত ধরে তাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলিসনা।অপরিচিতদের তো প্রথমে আপনি করেই বলতে হয়।ভদ্রতার প্রথম ধাপ এটা।আর ও তোদের মাঝে নতুন। তাই ওকে সেইভাবে আস্তে আস্তে মানিয়ে নিস।
-“হুম বুঝলাম।কিন্তু বছরের শেষের দিকে এসে কি পড়বে?সারা বছর কোথায় ছিল তোর বান্ধবী?
-“ফ্যামিলিকাল প্রবলেম ছিল।তাই ক্লাস বা স্টাডি কোনোটাই করতে পারেনি।
অধরা তরীর দিকে তাকিয়ে ওর কাছে প্রশ্ন করল,
-“আচ্ছা তুমি ইয়ার চেঞ্জ এক্সাম দিয়েছিলে?
-“ইয়ার চেঞ্জ এক্সাম না দিলে ২য় বর্ষের ক্লাস করবো কেনো?
নোমান অধরাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
-“গাধার মত প্রশ্ন করার কোনো মানে হয়না অধরা।যাই হোক,ক্লাসে চল।
-“এক মিনিট।প্রশ্নটা করার মত যুক্তি আছে বিধায় তো করলাম।ওকে তো আমরা ফার্স্ট ইয়ারে ক্লাস করতে ও দেখিনি।
-“আচ্ছা বললাম তো ও শহরের বাইরে ছিল ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য।ওর ব্যাপারে গোয়েন্দাগিরি করা বন্ধ করে এবার ক্লাসে চলুন।
নোমান তরীকে সঙ্গে করে নিয়ে ক্লাসে চলে গেল।তরীকে এভাবে বেশি প্রায়োরিটি দেওয়াটা অধরা বা আকাশ কারোরই পছন্দ হলোনা বিষয়টা।আর এমনিতেও বাস্তবিক ক্ষেত্রে মেয়ে মানুষ তার স্বামী/বয়ফ্রেন্ড যাই বলি তাদের নিয়ে একটু বেশি পসেসিভ থাকে অন্য মেয়ের ব্যাপারে।অধরার ক্ষেত্রে ও তার বিপরীত কিছু হচ্ছেনা।আর আকাশ ওর ব্যাপারটা একটু ভিন্ন।কলেজে চোখে পড়ার মত ছেলেদের ভেতর একজন।
দেখতে শুনতে বেশ ভালোই।কলেজের যে কোনো মেয়েই ওর চেহারার প্রতি মুগ্ধ হবে এমন ধরনের চেহারা ওর।সে হিসেবে গার্লফ্রেন্ডের সংখ্যা হিসাবে কম হবেনা।তাই নিজেকে একটু এক্সট্রা অর্ডিনারি মনে করে সে।ও ভাবে যে ভার্সিটিতে যত সুন্দরি মেয়ে থাকুক না কেনো ওর প্রতি সে আকর্ষিত হবেই। সেখানে আকাশ ক্লাসে তরীর কাছে গিয়ে বসার পরেও তরী যেভাবে মাঝে ডিসট্যান্স রেখে বসেছিল তাতে মনে হল ওর শরীর থেকে পঁচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। আর সেটাই আকাশের সম্মানে খুব লেগেছে।এজন্যই আকাশ তরীকে অনেকটা পিঞ্চ করেই কথা বলছিল।
-“নোমান আমার না খুব অস্বস্তি লাগছে।তুই আমাকে একটু অটোতে তুলে দিয়াসবি আমি বাসায় চলে যাব।
-“কিসের অস্বস্তি হচ্ছে তোর?অনেকদিন পর বাহিরের জগতে বেরিয়েছিস তাই এমন লাগছে।বুঝতে পারছি এখানে সবাইকে নতুন মনে হচ্ছে।একমাত্র আমার সাথে ছাড়া তুই কারো সাথে মিশছিস না।তাই এতো আনইজি ফিল করছিস।
-“কার সাথে মিশবো বল?
-“তরী এটা স্কুল না যে কেউ খেলার জন্য তোকে ডাকবে আর তারপর বন্ধুত্ব হয়ে যাবে।মনটাকে আগে ওপেন কর। এভাবে নিজেকে গুটিয়ে রাখলে ভেতরে তো জড়তা কাজ করবেই।এখানে কেউ যেচে পড়ে তোর সাথে গল্প করতে আসবেনা বা ফ্রেন্ডশিপ করতে আসবেনা।এখানে আমরা যারা আছি তারা তো সবাই একসাথে বা একই কলেজে পড়ালেখা করিনি।তাহলে আমরা সবাই কিভাবে বন্ধু হলাম বল?
-“হুম।
নোমান বুঝতে পারছে যে তরী কেনো কারো সাথে মিশতে চাইছেনা।কিন্তু ওকে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে হলে পেছনের সব ভয়ংকর স্মৃতিগুলোকে ভুলতে হবে বা ঐ ভয়ংকর স্মৃতিগুলোকে ভুলতে হলে ওকে সবার ভেতরে গিয়ে সবার সাথে মিশতে হবে।ঠিক যেমন এক বছর আগে ছিল।আর নোমান সেই চেষ্টাটায় করছে।নোমান অধরার কাছে গেল।
-“কি হলো?তুমি আমার সাথে কথা বলছোনা কেনো?
-“কথা নেই তাই কথা বলছিনা।
-“হুম সে তো বুঝতেই পারছি।
-“কি বুঝতে পারছো?
-“বয়ফ্রেন্ড কে হারিয়ে ফেলার ভয়?
-“ফালতু কথা বাদ দাও।তোমার বেস্টি রেখে এখানে এলে যে?আসার পর থেকে সেই ছোট বাচ্চার মত আগলে আগলে রাখছো।মনে হচ্ছে ছোট বাচ্চাকে নতুন স্কুলে ভর্তি করেছো বাচ্চাটা ভয় পাচ্ছে তাই সবসময় সাথে সাথে থাকছো।
-“আচ্ছা ওসব কথা বাদ দাও।আমি তোমাকে তো বলেছি যে ও শুধু আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নয় আমার বোন ও।তাও তুমি ওকে নিয়ে…..?
-“কি?ওকে নিয়ে আমি কি?তোমার চোখের সামনে যদি আমি শুধু আকাশকে নিয়ে সময় কাটাই তোমার কি সেটা দেখতে খুব ভালো লাগবে?
-“আচ্ছা তাহলে আমি একা ওর সাথে ঘুরবোনা।তুমি ও ঘুরবে আমাদের সাথে। ওর সাথে একটু কথা বলতে পারছোনা? দেখছোনা কিভাবে একা একা বসে আছে।
-“কেনো?আমি আগ বাড়িয়ে কেনো বলতে যাবো ওর সাথে?আর তুমি যখন আমাদের সাথে ওকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলে তখন ও কোনো কথা না বলে চুপচাপ অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে তাকিয়েছিলো।মনে হচ্ছিল আমাদের সাথে কথা বলাতে ও খুব বিরক্ত হচ্ছিল।
-“আরে না।তুমি ওকে যেমন ভাবছো ও মূলত তেমন না।ও একটু চাপা স্বভাবের আর মিশুক কম।কিন্তু ওর সাথে কেউ মিশলে বা বন্ধুত্ব করলে ও তার সাথে একদম ক্লোজ হয়ে যায়।
-“বয়ে গেছে আমার ওর সাথে ক্লোজলি হতে।
-“আচ্ছা তোমরা মেয়েরা এমন কেনো বলো তো?অহংকারী অহংকারী ভাব শুধু।
-“এই তুমি আমাকে কোন হিসেবে অহংকারী বলছো হ্যা?তোমার বন্ধু অহংকারী।সেই জন্যই তো কারো সাথে কথা বলেনা।নিজের মত নিজে থাকে।
তরী ওদের থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও অধরার বলা কথাগুলো শুনতে পাচ্ছিল। তাই ও উঠে গিয়ে নোমান আর অধরার কাছে গিয়ে ওদের হ্যালো করল।
-“আমি কি তোমাদের সাথে কথা বলতে পারি?
-“তোমাদের মানে?এই তুই তুমি করে কাকে বলছিস?
-“তোকে নয়।আমি অধরাকে বলছি।
-“আরে ওকে কেনো তুই তুমি বলবি? তুমি বললে কি আর ভালো বন্ধু হওয়া যায়,তুই করেই বল ওকে।
চলবে….
(গল্পের প্রথম কিছু পর্ব একটু বোরিং লাগতে পারে আপনাদের কাছে।কিন্তু গল্পটার সঙ্গে থাকলে একটি সুন্দর কাহিনী উপহার পাবেন আপনারা। কথা দিচ্ছি)
বিঃ দ্রঃ নিচে Next >> ক্লিক করলে পরবর্তী পর্ব পাবেন..!
Facebook Comments
People Came Here By Searching :
Jokes, bangla golper boi, bangla jokes pdf, bengali jokes pdf, bangla jokes book pdf download, gopal bhanrer 111 hasir golpo, bangla jokes pdf free download, bangalir hasir golpo, bdjobs, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes app, school jokes, funny jokes dirty, jokes app, joke book, short funny jokes, jokes in english, dad jokes, funny jokes, jokes, jokes for kids, dirty jokes, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes dirty, short funny jokes, hilarious jokes, clean jokes, really funny jokes, good jokes, funniest jokes ever, funniest joke in the world, inappropriate jokes, short jokes, deez nuts jokes, blonde jokes, bad jokes, offensive jokes, pun jokes, mom jokes, little johnny jokes,
jokes dirty, hilarious jokes, jokes for adults, very funny jokes, funny jokes clean, seriously funny jokes, dad jokes, corny jokes, , seriously funny jokes, funny jokes clean, funny jokes dirty, i need a funny joke, very funny jokes in english, most hilarious joke, funny knock knock jokes, funny jokes for adults, , clean jokes that are actually funny, funniest clean joke ever, greek jokes clean, clean joke of the day, somewhat clean jokes, long clean jokes, edgy clean jokes, i need a funny joke, funny jokes for kids(10-11), sick kid jokes, funny jokes for kids: 100 hilarious jokes, funny jokes for kids(8-9), funny jokes for kids(10-11) in hindi, kids joke of the day, silly jokes, jokes and riddles, , silly jokes for adults, funny silly jokes, 25 silly jokes, crazy silly jokes, seriously funny jokes, very funny jokes, hilarious jokes, awesome jokes, Jokes, bangla golper boi, bangla jokes pdf, bengali jokes pdf, bangla jokes book pdf download, gopal bhanrer 111 hasir golpo, bangla jokes pdf free download, bangalir hasir golpo, bdjobs, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes app, school jokes, funny jokes dirty, jokes app, joke book, short funny jokes, jokes in english, dad jokes, funny jokes, jokes, jokes for kids, dirty jokes, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes dirty, short funny jokes, ilarious jokes, clean jokes, really funny jokes, good jokes, funniest jokes ever, funniest joke in the world, inappropriate jokesshort jokes, deez nuts jokes, blonde jokes, bad jokes, offensive , jokes, pun jokes, mom jokes, little johnny jokes

No comments:
Post a Comment