– উম, তোমার দুষ্টুমি আরম্ভ হয়ে গেলো। [ কাব্যকে উদ্দেশ্য করে বলল ] কাব্য স্মেলট নিতে লাগল মিরা শরীর থেকে। ভ্রু কুঁচকে বলল,
– তোমার শরীর থেকে জেন্টস পারফিউম এর গন্ধ আসছে কেনো?
মিরা অজানা ভয়ে কেপে উঠল। বুক ধুকপুক ধুকপুক করতে লাগল। হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলো। কাব্য কিছু টের পেলো না তো?
– কি কি বলছ এ এসব? জেন্টস পারফিউম আসবে কোথা থেকে?
[ তুতলিয়ে বলল ] – সেটা তো আমিও ভাবছি…।
মিরা ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে রয়েছে। কাব্য যদি জেনে যায় তাহলে…। না না জানতে দেওয়া যাবে না। মিরা ঘুরে কাব্যের কাধে হাত রাখল। কাব্যের হাত মিরার কোমড়ের উপর। মিরা ওর মুখ এগিয়ে নিল কাব্যের নাকে নাক ঘসল। কপালে কপাল টেকিয়ে বলল,
– খুব ক্লান্ত লাগছে। আজ অফিসে কাজের খুব চাপ ছিল। আর তুমি এখন শুরু করলে ফাইজলামু।
– ওকে, ওকে যাও ফ্রেস হয়ে নাও।
কাব্য মিরাকে ছেড়ে দিচ্ছিল। মিরা টান মেরে কাব্যকে আবার কাছে আনল।
– ভালো লাগছে না।
[মুখ গোমড়া করে বলল ] – কি?
– তোমাকে ছাড়তে আর ফ্রেস হতেও…।
– উহু, এতো সময় তো ছাড়ানোর জন্য কতকিছু করছিলে। এখন কি হল?
– ছাড়ানোর চেষ্টা করলে ছাড়তে হবে বুঝি? কিছু বুঝনা নাকি?
[ অভিমান করে বলল ] – ওকে ওকে, আজ আর ছাড়ছি না।
কাব্য ওর মুখ মিরার কাধে নিয়ে গেল। ঘাড়ে মুখ ঘসতে লাগল। মিরা চোখ বন্ধ করে নিল। কাব্যের সন্দেহ কিছুটা দূর হয়েছে বোধ হয়।
– উফফ, আবার আরম্ভ। ছাড়ো তো ফ্রেস হতে হবে তো।
[ কাব্যকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বলল ] – এই না বললে, তোমাকে যেন না ছাড়ি। আর এই আবার বলছ ছেড়ে দিতে। আজব তো… [ নিজের মাথা হাত বুলাতে বুলাতে বলল ] – তো…গাধা..
বলে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল কাব্যের কাছে থেকে। ওয়াসরুমের দিকে গেল। কাপড়-চোপড় নিয়ে গেলো শাওয়ার নেয়ার জন্য। কাব্য কিছুই বুঝতে পারল না। এই বলে এক কথা পরক্ষনে বলে আরেক কথা। আর গাধা বলল কেনো? কি জানি। কাব্য বারান্ধায় যেতে যেতে গান ধরল,
” মেয়েদের মন বোঝা নয়রে নয় সোজা,
মেয়েদের মন বোঝা নয়রে নয় সোজা। ”
আসলেই.. মেয়েদের মন বোঝা ওতোটাও সোজা না। ওয়াসরুম থেকে মিরা কাব্যের গান শুনছে আর হাসছে।
– পাগল একটা…।
[ মুচকি হেসে বলল ] তবুও মিরার মন খচখচ করছে। কাব্য যদি টের পেয়ে যায় যে, ওর আকাশের সাথে…। তাহলে, কাব্য তুলকালাম বাধিয়ে দিবে। কাব্য বারান্ধায় চেয়ারে বসে মোবাইল টিপছে। আর মিরাকে নিয়ে ভাবছে। মিরা ইদানীং কেমন যেন হয়ে গেছে? মনে হয় আমার কাছে আসলে অপরাধবোধে ভোগে। এরকম করে কেনো? আগে তো এরকম করত না। মিরা আমার কিছু লুকুচ্ছে।
– কি ভাবছ?
মিরা চুলে টাওয়াল ঠিক করতে করতে বলল,
– ভাবছি, তোমাকে এখনি জরিয়ে ধরি।
– জরিয়ে ধরাধরি পরে। আগে খেতে চল।
– হুম, চল।
টেবিলে খেতে বসল কাব্য আর মিরা। মিরা কি যেন ভাবছে?
– মিরা।
– হুম। [ অন্যমনস্ক হয়ে ] – কি ব্যাপার? খাচ্ছো না কেনো? কি ভাবছো? [ ভ্রু কুচকে বলল ] – না কই কি কিছু না তো। [ তুতলাতে তুতলাতে বলল ] – তাহলে খাচ্ছো না যে?
– হ্যা, হ্যা খাচ্ছি তো।
[ নিচের দিকে তাকিয়ে বলল ] মিরার হাবভাব কাব্যের ভালো ঠেকছে না। কি হয়েছে মিরার?
– তোমার কি হয়েছে বলো তো? [ প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকাল মিরার দিকে ] মিরা চোখ তুলে তাকাল কাব্যের দিকে। মিরা ভাবে, কাব্য বুঝে নেয় কি করে আমাকে? এতোটাই ভালোবাসে ও আমাকে। কাব্য গিয়ে মিরার পাশে বসল।
– Any Problem? বল আমাকে।
– না, কিছু না। আসলে শরীর খারাপ লাগছে। ভালো লাগছে না।
– ওও, আগে বলবে তো। দেখি জ্বর আসল নাকি?
কপালে হাত দিয়ে দেখল। সামান্য জ্বর জ্বর লাগছে।
– এই জন্যই তো খারাপ লাগছে। জ্বর বাধিয়ে ফেলেছো।
[ রাগী কন্ঠে বলল ] খাবারের প্লেটটা হাতে নিল,
– দেখি হা করো।
মিরা হা করল। কাব্য খাইয়ে দিতে লাগল। মিরা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কাব্যের দিকে। খাওয়া শেষ মিরার হাত ধুইয়ে নিজে হাত ধুলো। মুখ মুছে দিল মিরার। মিরা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কাব্যের দিকে। প্রার্থনা করছে এই সময়টা যেন এখানেই স্তব্ধ হয়ে যায়। এখানেই যেন থেমে যায়।
– এভাবে কি দেখছ? [কাব্য] – কিছু না।
– তাহলে।
জরিয়ে ধরল কাব্যকে। কাব্য বুঝে উঠতে পারল না। কাব্যও জরিয়ে ধরে মিরার মাথায় হাত বুলাতে লাগল। মিরার কান্না পাচ্ছে। কিন্তু, পারছে না। কেনো যে সেদিন ভুলটা করল। এখন নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন, আমি ওকে ঠকাচ্ছি।কাব্য মিরাকে কোলে তুলে নিলো,
– রুমে চলো। ডাক্তার আঙ্কেল কে ফোন করে আসতে বলি।
মিরা কাব্যের গলা জরিয়ে ধরতে ধরতে বলল,
– সামান্য জ্বরই তো। কমে যাবে।
– চুপ চলো।
কাব্য মিরাকে নিয়ে বেডরুমে গেলো। শুইয়ে দিয়ে ডাক্তার আঙ্কেলকে ফোন করল। উনি এসে চেক করে ঔষধ দিয়ে চলে গেলেন। কাব্য মিরাকে ঐষধ খাইয়ে শুইয়ে দিল। মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল,
– ঘুমিয়ে পড়ো এখন।
মিরা চোখ বুজে নিল। কাব্য এতোটা ভালোবাসে আমাকে। কেনো? কি আছে আমার মাঝে? কাব্য তো আমাকে চাকরি করতে মানা করেছিল। তবুও আমি চাকরিটা করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিলাম। যার জন্য কাব্য চাকরি করার অনুমুতি দিয়েছিল। ফল স্বরুপ এখন সেটা ভোগ করতে হচ্ছে।
– না ঘুমিয়ে কি চিন্তা করছো? [কাব্য] উফফ, কাব্যও না। চোখ বুজে ভাবছি তবুও বুঝে গেছে যে, ঘুমুই নি।
– উম, ঘুমাচ্ছি তো।
কাব্য মিরার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। মিরার চোখে ঘুম এসে পড়েছে। ঘুমিয়েও পড়ল। কাব্যেরও চোখ লেগে আসছিল। ঘুম ভেঙে গেল ফোনের আওয়াজে। মিরার ফোন এসেছে। কাব্য ভাবল, মিরাকে ডাকবে। কিন্তু, ডাকল না। ফোন হাতে নিয়ে দেখল মিরার বস আকাশের ফোন। ফোন রিসিভ করল,
– হ্যালো।
– হ্যালো, কে বলছেন?
– আমি মিরার হাসব্যান্ড কাব্য।
– ওও, কেমন আছেন?
– ভালো।
– আচ্ছা, মিরা কোথায়?
– ওও তো ঘুমিয়ে আছে। কোনো জরুরী দরকার নাকি?
– নাহ, ঘুম থেকে উঠলে বলবেন আমি ফোন করেছি।
– ওকে।
ফোন কেটে দিল। কাব্য ফ্রেস হয়ে আসল। মিরার মোবাইলে একটা মেসেজের উপর চোখ পড়ল। মিরা তখনও ঘুমিয়েই আছে। ফোন হাতে নিয়ে দেখল আকাশের মেসেজ। ওপেন করে দেখল,
” কাল বিকেলে লেকের পাড়ে এসে দেখা করো। ”
কাব্য ভ্রু কুচকালো। কাল তো ছুটির দিন। তাহলে আকাশ মিরাকে লেকের পাড়ে কেনো ডাকছে?
.
.
[পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন ] .
.
চলবে…………
#সন্দেহ
#Part_2
#Writer_কাব্য_আহম্মেদ
,
” কাল বিকেলে লেকের পাড়ে এসে দেখা করো। ”
কাব্য ভ্রু কুচকালো। কাল তো ছুটির দিন। তাহলে আকাশ মিরাকে লেকের পাড়ে কেনো ডাকছে?
কাব্য ভাবছে কোনো ভাবে ধোকা খাচ্ছি না তো আমি? নাহ, কি ভাবছি এসব? মিরা ধোকা দিবে আমাকে!! অসম্ভব। এটা ভাবলাম কি করে আমি? আসলে মিরাকে একটু বেশীই ভালোবাসিতো তাই হারানোর ভয়টাও বেশী।
– কি ভাবছো? [ মিরা ঘুম থেকে উঠে দেখল কাব্য ভাবনার জগতে ডুবে আছে ] কাব্য তাকিয়ে দেখল মিরা জেগে গেছে। তাকিয়ে আছে ওর দিকে,
– কিছু না। তোমার ঘুম হয়ে গেলো?
– হুম। [উঠতে উঠতে বলল] – আরে আরে উঠছো কেনো? শুয়ে থাকো। তোমার জ্বর এখনোতো কমেনি। [ কপালে হাত দিয়ে জ্বর আছে কি না দেখল ] – কাব্যওও, আমার শুয়ে থাকতে ভালো লাগছে না। তাছাড়া রান্না করবে কে?
– আমি আছি না। তোমার বর।
– তুমি রান্না করবে? হা হা।
– কেনো? আমি পারি না নাকি? [ মুখ গোমড়া করে বলল] – না, সেটা বলিনিতো। রান্না করতে গিয়ে হাত পুড়িয়ে-টুড়িয়ে ফেলবে। তার চেয়ে আমিই রান্নাটা সেরে নিই।
[উঠতে গেলে কাব্য শুইয়ে দেয়] – বললাম তো তুমি পারবে না। চুপটি করে শুয়ে থাকো।
– উফফ! তুমি না আমাকে নিয়ে একটু বেশীই ভাবো। এতো বেশী বিশ্বাস করা আর অন্যকে নিয়ে ভাবাটা কিন্তু ঠিক না। [ লাষ্ট কথাটা বলতে গিয়ে মিরা আনমনা হয়ে গেল] – মানেটা কি? তুমি কি বলতে চাইছো বুঝিয়ে বলো। [একটু রেগে গেল কাব্য ] -আরে রেগে যাচ্ছো কেনো? আচ্ছা চলো তুমিই রান্না করবে আর আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখব।
[ মুচকি হাসি দিয়ে বলল ] – ওক্কে😍।
( কিচেনে….. )
কাব্য ভাবছে কি তৈরি করবে? আসলে কিছুই তো পারে না। তবুও দেখি কিছু করতে পারি কি না? একটা ডিম হাতে নিলো। ভেঙে সেটা তেলে ভাজতে লাগল। মিরা মিট মিট করে হাসছে। একটা ডিমবাজি করতে গিয়েই কাব্য ঘেমে একাকার।
– কি জনাব সাধ মিটছে তো রান্না করার? এখন সরো আমি রান্না করে নিই।
– না, আজ আমিই রান্না করব। তুমি শুধু দাঁড়িয়ে দেখবে।
– কাব্যওও। [কোমড়ে হাত দিয়ে বলল] – কোনো কথা হবে না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকো।
মিরা আর কথা বলল না। ডিমবাজি করে আর কি রান্না করবে ভাবছে? ময়দার প্যাকেট হাতে নিলো। পরোটা তৈরি করবে। ময়দাগুলো ধলাইমলাই করতে লাগল। কিছুক্ষণ পর পর হাত দিয়ে কপালের ঘাম মুছছে। মিরা হেসেই যাচ্ছে। কাব্য তাকিয়ে দেখল মিরা হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে।
– এই তুমি হাসছো কেনো? [ বিরক্তি চোখে বলল ] – নাহ, এমনি। [মুখ টিপে হাসছে ] – আচ্ছা দাড়াও।
পরোটা তৈরীর ময়দা হাতে মিরার দিকে এগিয়ে গেলো।
– এই তু তুমি কিক কি করতে চাইছো? [তুতলাতে তুতলাতে বলল] – দেখো না কি করি?
মিরা দৌড়ার আগে পিছন থেকে জরিয়ে ধরল। গালে ময়দাগুলো মাখিয়ে দিল।
– কাব্য, ভালো হচ্ছে না কিন্তু…।
– উহু, কি করবে তুমি? [ভেংচি কেটে বলল] – দেখবে কি করতে পারি?
– দেখি, দেখি। [ টাট্রার স্বরে বলল ] মিরা ঘুরে কাব্যর পায়ে পা তুলল। কাব্য অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মিরার দিকে। কি করতে চাইছে মিরা? কাব্য দুইহাত দিয়ে মিরার কোমড় জরিয়ে ধরল। মিরার ওর মুখ এগিয়ে নিল কাব্যের মুখের দিকে। গালে গাল ঘসল। ওর গালের ময়দা কাব্যের গালে লাগিয়ে দিল। কাব্য ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল, তাহলে এই দুষ্টুমি বুদ্ধি ঘুরছিল মিরার মাথায়।
এভাবেই দুষ্টুমি করছিল কাব্য আর মিরা। আর কাব্য এদিকে পরোটা করছিল। মিরার মোবাইল বেজে উঠল। কেউ কল করেছে। মিরা হাত নিয়ে তাকাতেই মিরার মুখে বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠল। কাব্য সেটা লক্ষ করল।
– ফোনে কথা বলে আসি। তুমি তৈরি করো। দেখো হাত টাত না পুড়িয়ে ফেলো।
মিরা চলে গেলো রান্নাঘর থেকে। কাব্য পরোটা তৈরি করতে লাগল। প্রায় ৭/৮ মিনিট হলো মিরা ফোনে কথা বলতে গেলো এখনো এলো না। কাব্যের পরোটা তৈরি করা শেষ। কয়েকটা আলু সিদ্ধ করে বর্তা করে নিল। কাজ শেষ মিরাকে খুঁজতে খুজতে রুমে গেলো। মিরা বারান্দায় কথা বলছে।
– স্টপ ইট। তোমার সাথে আমার মাত্র ১ মাসের সম্পর্ক। তার জন্য তুমি কি ভেবেছো যে এই একমাসে আমি সম্পুর্ন তোমার হয়ে যাবো। [মিরা] অপরপাশ থেকে কথা ভেসে আসল তবে শোনা গেলো না।
– শুনে রাখো। এই একমাস আমি কোনরকমেই তোমার কথা মতে চলতে পারব না। আর জেনে রাখো, কাব্যকে আমি আমার জীবনের থেকেও বেশী ভালোবাসি। ওকে ধোকা দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।
,
কাব্য মিরাকে বারান্দায় দেখে মিরার কাধে হাত রাখল। মিরা কেপে উঠল। পিছনে তাকিয়ে কাব্যকে দেখে ভয় পেয়ে গেলো। কাব্য কিছু শুনেনি তো?
– কথা শেষ হয়নি এখনো। খাবার খাবে চলো।
মিরা স্বস্তির নিশ্বাস নিলো। যাক কাব্য তাহলে কিছু শুনেনি। ফোন রেখে দিল মিরা।
– হুম শেষ চলো। আসলে আর্জেন্ট ফোন ছিলো তো। তাই দেরী হলো। [ মিথ্যা কথা বলতে গলা ধরে যাচ্ছিল মিরার ] – অফিসের?
– হুম।
– একটু আগে আকাশ ফোন করেছিল।
আকাশের কথা শুনেই মিরা আৎকে উঠল। আকাশ কাব্যকে কিছু বলেনি তো।
– ক কখন? [ ভয়ে তুতলিয়ে বলল ] – এইতো একটু আগে তুমি ঘুমিয়ে ছিলে তখন। ( কাব্য)
– ওও।
– তোমাকে খুজছিলো…।কোনো কাজ হবে হয়তো।
মিরা কোনো কথা বলল না।
– আচ্ছা, চলো এখন খাবার খাবে চলো। [ মিরাকে তারা করল কাব্য ] মিরা মাথা নাড়াল। কাব্য তাহলে কিছু বুঝতে পারেনি। কাব্যকে মিরাকে টেবিলে বসিয়ে দিল। খাবার প্লেটে তুলে ধরল। মিরা মুখে দিতেই হেচকি দিয়ে উঠল,
– কি হলো মিরা? পানি খাও। [ পানি এগিয়ে দিলো ] আসলে খাবারে অতিরিক্ত লবন দিয়ে ফেলেছে কাব্য। যার কারনে তেতো হয়ে গেছে। মিরা খেতে শুরু যতই হোক কাব্য বানিয়েছে তো। মিরার খাওয়া দেখে কাব্য খুশি হলো।
– কেমন হলো? বললে না তো।
– উম, খুব ভালো হয়েছে।
কাব্য নিজে নিয়ে মুখে দিতেই মুখটা কালো হয়ে গেলো। মিরার সামনে থেকে প্লেট ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো,
– কি করছিলে এটা তুমি? [ কাব্যর রাগ হচ্ছে ] – কই? কি করলাম? [ না জানার ভান করল ] – খাবারটা তো ভালো হয়নি। অতিরিক্ত লবন হয়ে গেছে। তাহলে খাচ্ছিলে কেনো তুমি?
– তুমি এতো কষ্ট করে তৈরি করলে আমি….
মিরাকে থামিয়ে দিল,
– আমি তৈরি করলেই খেতে হবে। তোমার কমন সেন্স নেই। স্টুপিড..
[ টেবিলে পাঞ্চ করল হাত দিয়ে ] মিরা ভয়ে চোখ বুঝে নিলো।
– এখানেই বসে থাকো আসছি আমি। আর যদি এই খাবারে হাত দিয়েছো তো খবর আছে তোমার…
মিরা মাথা নাড়াল। জানে এখন কিছু বলে লাভ হবে না। কাব্য অতিরিক্ত রেগে গেছে। কাব্য বাইরে গেলো রেষ্টুরেন্ট থেকে খাবার কেনার জন্য।
মিরা আনমনা হয়ে ভাবতে লাগল, এতোটা ভালোবাসো কেনো তুমি আমাকে? যদি তুমি আমার আর আকাশের এই সাময়িক রিলেশনের কথা জানতে পারো তাহলে….
ভয় হচ্ছে খুব। তোমাকে ঠকাচ্ছি আমি কাব্য। যদি এটা জাষ্ট একটা বাজি। তবুও তোমাকে অবহেলা করতে হচ্ছে আমাকে। সত্যিটা বলতে পারছি না তোমাকে।
,
কাব্য রেষ্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে আনল। খাবার খেয়ে নিলো দুজনে।
( রাতে )
আকাশ বারবার ফোন করছে মিরাকে। মিরা বারবার কেটে দিচ্ছে। কেনো বিরক্ত করছে আমাকে? মিরা আকাশের সাথে নয় কাব্যর সাথে সময় কাটাতে চায়। কাব্য গোসল করে বেরিয়ে এলো ওয়াসরুম থেকে। এসেই মিরার কোলে মাথা রেখে ধুপ করে শুয়ে পড়ল। মিরা চমকে উঠল। কাব্যকে দেখে একটা হাসি দিলো। পিচ্ছিদের মতো কাণ্ডকারখানা।
– তোমার জ্বর কমেনি এখনো?
মিরা একটু ঝুকে বলল,
– নিজেই হাত দিয়ে দেখে নাও।
কাব্য কপালে হাত দিয়ে দেখল কমে গেছে অনেকটাই।
– আচ্ছা, চলো খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।
– হুম।
খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ল মিরা আর কাব্য। মিরা আনমনা হয়ে ভাবছে কি যেনো? খুব ভয় করছে ওর। কাব্য যদিও কখনো জেনে যায় আকাশ আর ওর রিলেশনের কথা তাহলে ভেঙে পড়বে। ভুল বুঝবে আমাকে। কাব্য যদি সত্যিটা জানতে না চায় তাহলে…। বুকটা কেপে উঠল মিরার। পিছন থেকে কাব্য জরিয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে। মিরা ঘুরে কাব্যর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল।
( পরদিন বিকেলে )
– তুমি কোথাও যাচ্ছো? [কাব্য ] – হুম, একটু দরকার আছে।
– কি?
– শপিংয়ে যাচ্ছি।
– আচ্ছা, চলো আমি নিয়ে যাচ্ছি তোমাকে।
মিরা কানের দুল পড়ছিল। থেমে গেলো,
– না,না আমিতো শ্রেয়ার সঙে যাচ্ছি। তুমি যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
– রিয়েলি…
– হুম।
মিরা চলে গেলে কাব্যর হঠাৎ মনে পড়ল আকাশের মেসেজের কথা। আজ বিকেলে দেখা করতে বলেছিল আকাশ। তাহলে মিরা কি আকাশের সাথে দেখে করতে যাচ্ছে? নাকি সত্যিই শপিং করতে যাচ্ছে। কাব্য এক মুহুর্তের জন্য থমকে গেলো। গাড়ি নিয়ে বেরিয় পড়ল আকাশের দেয়া লোকেশনে যেতে হবে। আকাশ লেকের পাড়ে দেখা করতে বলেছিল।
,
সেখানে গিয়ে যা দেখল সেটার জন্য প্রস্তুত ছিল না কাব্য। মিরা আকাশের সাথে বসে আছে। কি যেন কথা হচ্ছে দুজনের মাঝে? কিন্তু, মিরা তো বলেছিল শপিংয়ে যাচ্ছে। তাহলে এখানে…
কাব্য ধপ করে বসে পড়ল। মিরা মিথ্যা বলল আমাকে। মেনে নিতে পারছে না কাব্য। এদিকে মিরা আকাশের সাথে বসে কথা বলছে,
– দেখো আকাশ এভাবে যখন তখন আমাকে ডেকে নিতে পারো না তুমি। আমার স্বামীও আছে ভুলে যেয়ো না।
– আরে ডার্লিং তোমার স্বামীর ব্যাপারে ভাবা বাদ দাও। আমাকে আর আমাদের সম্পর্কের কথা ভাবো…
– ওয়াট ডার্লিং! [ রেগে গেলো মিরা ] – হেই ওয়েট ওয়েট। মনে আছে তো কি কথা ছিল আমাদের মাঝে? [ মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল আকাশ ] – আমি এখনই তোমার সাথে ব্রেকা…
মিরাকে থামিয়ে দিল আকাশ।
– করতে পারো। কিন্তু, কাব্যর সাথে তোমার সংসার খুব বেশীদিন ঠিকবে না। [ শয়তানী হাসি দিয়] – মানে! [ আৎকে উঠল মিরা ] – মানে, কাব্যর মনে বিষ ডেলে দিতে সময় লাগবে না আমার।
– ইউ…
– কুল বেবি, কুল। বাড়াবাড়ি বেশী হয়ে যাচ্ছে না…
মিরা থেমে গেলো। জানে আকাশ খুব লুচ্চা আর শয়তান । কি করবে কখন কে জানে? যদি কাব্যর মনে ভুল কিছু ডুকিয়ে তাহলে….
কাব্য বাসায় ফিরে আসার পর থেকে স্তব্ধ হয়ে বসে আছে। মিরা আকাশের সাথে দেখা করবে সেটা তো ওকে বলে যেতে পারতো। মিথ্যা কথা বলার কি ছিল? হয়তো অফিসের কোনো কাজের কথা বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু, মিথ্যা বলার কারনটা কি ছিল? নাকি মিরা…।
মিরা সন্ধ্যায় বাসায় ফিরল। সাথে শপিং ব্যাগ। কাব্যকে খুঁজতে খুঁজতে রুমে গেলো। দেখল কাব্য বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। মিরা গিয়ে পিছন থেকে জরিয়ে ধরল,
– এসো গেছো..। অনেক শপিং করেছো তাই না।
– হুম।
– আচ্ছা, আমাকে মিথ্যা বলার খুব প্রয়োজন ছিল কি?
মিরা চমকে গেলো,
– মানে!
– মানে, আমি দেখেছি তুমি শপিংয়ে নয় বরং তোমার বসের সাথে দেখে করতে গিয়েছিলে…
চলবে……….
বিঃ দ্রঃ নিচে Next >> ক্লিক করলে পরবর্তী পর্ব পাবেন..!
Facebook Comments
People Came Here By Searching :
Jokes, bangla golper boi, bangla jokes pdf, bengali jokes pdf, bangla jokes book pdf download, gopal bhanrer 111 hasir golpo, bangla jokes pdf free download, bangalir hasir golpo, bdjobs, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes app, school jokes, funny jokes dirty, jokes app, joke book, short funny jokes, jokes in english, dad jokes, funny jokes, jokes, jokes for kids, dirty jokes, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes dirty, short funny jokes, hilarious jokes, clean jokes, really funny jokes, good jokes, funniest jokes ever, funniest joke in the world, inappropriate jokes, short jokes, deez nuts jokes, blonde jokes, bad jokes, offensive jokes, pun jokes, mom jokes, little johnny jokes,
jokes dirty, hilarious jokes, jokes for adults, very funny jokes, funny jokes clean, seriously funny jokes, dad jokes, corny jokes, , seriously funny jokes, funny jokes clean, funny jokes dirty, i need a funny joke, very funny jokes in english, most hilarious joke, funny knock knock jokes, funny jokes for adults, , clean jokes that are actually funny, funniest clean joke ever, greek jokes clean, clean joke of the day, somewhat clean jokes, long clean jokes, edgy clean jokes, i need a funny joke, funny jokes for kids(10-11), sick kid jokes, funny jokes for kids: 100 hilarious jokes, funny jokes for kids(8-9), funny jokes for kids(10-11) in hindi, kids joke of the day, silly jokes, jokes and riddles, , silly jokes for adults, funny silly jokes, 25 silly jokes, crazy silly jokes, seriously funny jokes, very funny jokes, hilarious jokes, awesome jokes, Jokes, bangla golper boi, bangla jokes pdf, bengali jokes pdf, bangla jokes book pdf download, gopal bhanrer 111 hasir golpo, bangla jokes pdf free download, bangalir hasir golpo, bdjobs, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes app, school jokes, funny jokes dirty, jokes app, joke book, short funny jokes, jokes in english, dad jokes, funny jokes, jokes, jokes for kids, dirty jokes, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes dirty, short funny jokes, ilarious jokes, clean jokes, really funny jokes, good jokes, funniest jokes ever, funniest joke in the world, inappropriate jokesshort jokes, deez nuts jokes, blonde jokes, bad jokes, offensive , jokes, pun jokes, mom jokes, little johnny jokes

No comments:
Post a Comment