১!!
একজন মানুষের অনুপস্থিতি কি করে পুরো পরিবারকে থামিয়ে দেয় সেটা তনয়ার মা মারা না গেলে বোধয় তনয়া জীবনে বুঝতে পারতো না।
গত কাল সকাল দশটায় তনয়ার মা চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বিকালে তাকে দাফন দেয়া হলো তারপর থেকে বাড়িটা কেমন নিঃস্তব্ধ হয়ে গেছে। তনয়ার মায়ের সাথে সাথে মনে হয় পুরো বাড়িটা প্রান হীন হয়ে গেছে।
গত কাল থেকে তনয়ার বাবা বেশ কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলো আর রাত থেকে কারো সাথে কোন কথা বলছে না। চুপচাপ তার রুমে রকিং চেয়ারে বসে মায়ের ছবির দিকে তাকিয়ে আছে।
তনিমাকে আর তনয়কে খাইয়ে দিতে দিতে তনয়া ভাবছিলো মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আমাদের ঘরটা শূণ্য হয়ে গেলো। তনয়ার চোখ বাঁধা মানতে চাইছে না। কিন্তু তনিমা আর তনয়ের সামনে চেয়েও কাঁদতে পারছে না। কারন তনয়া যে বড় বোন। ও ভেঙে পড়লে তনিমা আর তনয়কে কি করে সামলাবে।
এর মধ্যে কে যেনো দড়জায় বেল বাঁজালো তনিমা দড়জা খুলে দেখে আয়াত বিস্ময় দৃষ্টিতে ওদের ঘরের দিকে তাকিয়ে আছে। আয়াতকে দেখেই তনিমা ওকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বলছে
—মা চলে গেছে আয়াত ভাইয়া। মা আর আমায় তনি বলে ডাকবে না। মা তোমায়ও আর আয়াত বাবা বলেও ডাকবে না। চলে গেছে মা। মা কেন আমাদের ছেড়ে চলে গেলো ভাইয়া।
সাত বছরের তনয় আয়াতের কাছে গিয়ে বললো
—আয়াত ভাইয়া! আয়াত ভাইয়া! জানো সবাই না মাকে বাড়ির পিঁছনে দিকের ফাঁকা জায়গায় মাটির নিচে রেখে আসছে। আমি এত বলছি মায়ের কাছে যাবো কেউ যেতে দিচ্ছে না। তনয়া আপুও যেতে দিচ্ছে না।
আয়াত ওদের দুজনকে কোন মতে শান্ত করে তনয়ার বাবার রুমে গেলো। গিয়ে দেখে তিনি তনয়ার মায়ের ছবিটা বুকে নিয়ে রকিং চেয়ারেই ঘুমিয়ে পরছে। তাকে ঘুমোতে দেখে আয়াত তাকে আর ডাকলো না। বাইরে এসে সোজা তনয়ার রুমে গেলো। গিয়ে দেখে তনয়া বারান্দার গ্রিল ধরে বাইরের তপ্ত রোদের দিকে তাকিয়ে আছে। তনয়ার কাঁধে হাত রেখে আয়াত বললো
—তনয়া এত সব হয়ে গেলো। আর আমাকে কেউ জানালো না!
—তনয়া শান্ত উদাসীন গলায় বললো কি করে জানাবো আয়াত? তুমিই তো বললে ঢাকা যাবার পথে তোমার ফোন চুরি হয়ে গেছে। তারপরও তোমাদের বাড়ির ল্যান্ড লাইনে ফোন করেছিলাম। কিন্তু তোমাদের কাজের লোক রিসিভ করে বললো তোমরা সবাই তোমাদের কোন আত্মীয়ের বাসায় নাকি বেড়াতে গেছো। ফিরতে রাত হবে। তবুও আমি বলেছিলাম আয়াত আসলে বলবেন তনয়ার মা একসিডেন্ট করেছে।
—হ্যা আমাদের কাজের ছেলে আকবর ফোন ধরছিলো। রাত একটার সময় আমরা বাড়ি ফিরি কিন্তু খবরটা সকালে পাই। তারপর কতবার তোমার ফোন ট্রাই করছি পাইনি। তাই তো সকাল সকালই রওনা দিলাম। কিন্তু আন্টির এসব কিভাবে?
তনয়া আর কোন কথা বলতে পারলো না। আয়াতকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কান্না করতে করতে বলে
—আয়াত মা আমায় আর বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করবে না। মাকে আমি চাইলেও ছুঁয়ে দেখতে পারবো না। মায়ের চলে যাওয়াটা আমি নিতে পারছি না আয়াত।
আয়াত কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। আয়াত তনয়ার মা (তানজিলা জাহানকে) পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মায়েদের কাতারে দেখে। একজন অসাধারন মহিলা ছিলো। অথচ আজ সে—-আয়াত শেষ বার তাকে দেখতেও পারলো না। অথচ এই আয়াতকে তিনি নিজের ছেলের মত ভালোবাসতেন।
আয়াত তার ভালোবাসা পেয়ে ভুলেই গেছিলো ছোট বেলা থেকে ও মায়ের ভালোবাসা পায়নি। ভুলেই গিয়েছিলো নিজের মা থাকতেও বছরের পর বছর মায়ের ভালোবাসা বিহীন উদ্ভভ্রন্তের মত ঘুরেছিলো তখন তনয়ার মা ই ওকে সঠিক পথ দেখিয়েছিলো।
পারিবারিক দ্বন্দ্বে নেশায় আসক্ত হয়ে পরেছিলো আয়াত। সে অবস্থা থেকেও সম্পূর্ন সুস্থ করে নতুন জীবন দিয়েছিলো আয়াতকে তনয়ার মা। হায়রে নিয়তি! আয়াতের চোখ ভেঙে কান্না পাচ্ছে। কিন্তু কোন মতে নিজের কান্না আটকে রাখার চেষ্টা করছে। ও যদি কান্না করে তাহলে তনয়া আরো ভেঙে পরবে। এখন ওকে তনয়ার পাশে শক্ত হয়ে দাড়াতে হবে।
তনয়াকে আয়াত বেশ কিছুক্ষন কান্না করতে দিলো। তারপর তনয়ার মাথাটা তুলে দু হাত তনয়ার গালে হাত দিয়ে তনয়ার মুখে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে, চোখের জল মুছতে মুছতে বললো
—-তুমি এভাবে ভেঙে পরলে তনিমা, তনয়, তোমার বাবা তাদের কে সামলাবে? দেখো তুমি আর তনিমা তবুও যা বড়ো হয়েছো কিন্তু তনয়? ও তো মাত্র সাত বছরের বাচ্চা ভাবো তো তনয় তো বুঝেই না মৃত্যু কি? তবুও আন্টির অনুপস্থিতি ওকে অস্থির করে দিচ্ছে । মনকে শক্ত করো, তোমার এখন সবার ভরশা হবার দরকার। আর তোমার ভরশার জন্য আমি আছি না।
—-তুমিই বা কতক্ষন থাকবে? হয়তো বিকালে বা সন্ধ্যাই চলে যাবে। তারপর?
—-সেটা পরে দেখা যাবে । এখন চলো খাবে? জানি কাল থেকে একটা দানা পানিও মুখে দাওনি। তনয়, তনিমা খেয়েছে?
—-হুমমম। আমি খাইয়ে দিয়েছি।
—-আর আঙ্কেল?
—-না! সে তো রুম থেকেই বের হচ্ছে না।
—-মাত্র দেখলাম ঘুমাচ্ছে। থাক জাঁগিয়ো না। তুমি চলো খাবে।
—-খেতে ইচ্ছে করছে না।
—-আমি খাইয়ে দিলেই ইচ্ছা করবে।
২!!
আজ তনয়ার মায়ের কুলখানি। সকাল থেকে সবাই মোটামুটি কাজে ব্যাস্ত। আয়াতের উপর কাজের সিংহ ভাগ পরেছে। ও সুষ্ঠ ভাবেই কাজ গুলো করছে।
তনয় গত রাত থেকে মায়ের জন্য খুব কান্না করছে দেখে তনয়া তনয়কে নিজের বুকের মাঝে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করছে। তনয় কারো কাছে যাচ্ছে না, ঠিক মত খাচ্ছে না। আর তনিমার মত চঞ্চল মেয়েটা সারাদিন রুমে বদ্ধ অবস্থায় বসে রয়েছে।
তনয়ার মেজো খালা আছেন দেখে তনয়া একটু স্বস্তি পাচ্ছে। নয়তো পুরো ঘরটা তনয়া কি করে সামলাতো সেটা ভাবতেই তনয়ার বুকটা কেঁপে উঠছে। তনয় তনয়ার বুকেই ঘুমিয়ে পড়ছে। তনয়কে নিজের বিছানায় শুয়ে দিয়ে তনয়া গেলো ওর বাবা (মিজানুর রহমানের) কাছে।
তিনি দিনের বেলাও ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে অন্ধকারে বসে আছেন। তনয়া গিয়ে রুমের দরজা জানালা খুলে দিয়ে বললো
—-বাবা দরজা জানলা বন্ধ করলেই কি অন্ধকার হয়? আর সে অন্ধকারে বুঝি তুমি নিজেকে লুকাতে পারবে? তুমিই তো বলো অন্ধকার না থাকলে আলোর কোন মর্ম থাকে না। তবে তুমি আজ অন্ধকার থেকে বেড়োতে কেন চাইছো না? কেনো আলো দেখলে এড়িয়ে যাচ্ছো। বাইরে চেয়ে দেখো কত আলো। এ আলোতে তোমার চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। মিজানুর রহমান বললেন
—-মা রে আমাদের ঘরের সকল আলো যে, তোর মা সাথে করে নিয়ে গেছে। এখন নতুন আলো দেখার কোন ইচ্ছা নাই আমার।
—-বাবা নিচে সবাই মায়ের জন্য দোয়া করছে, কোরআন তেলায়ত করছে চলো তুমিও সেখানে বসবে।
তনয়া ওর বাবার হাত ধরে নিচে নিয়ে গেলো। নিচে সবাই বসে দোয়া কালাম পড়ছে। আয়াতও পাঞ্জাবি পরে মাথায় টুপি দিয়ে তাদের সাথে মোনাজাত ধরছে।
তারপর সবার খাবার ব্যবস্থা আয়াতই করে দিচ্ছে।
কিছু কিছু আন্টি আছে যারা মৃত ব্যক্তিদের বাড়ি এসেও অন্যদের কুৎসা রটানো ছাড়ে না। তেমনি দুজন আন্টি এক কোনায় বসে কিছু বলছিলো। কথাগুলো আয়াতকে উদ্দেশ্য করে বলছে
—ঐ ছেলেটা কে? চিনলাম না তো? সকাল থেকে সব কাজই তো দেখলাম ছেলেটা একা হাতে সামলাচ্ছে।
—আরে ভাবি আপনি জানেন না! তনয়ার সাথে ঐ ছেলের সম্পর্ক চলছে । জানেন না আপনি?
—নাতো?
—কি যে বলেন ভাবি এ কথাতো অনেকেই জানে। গত পাঁচ বছর ধরে ওদের মধ্যে রিলেশন চলে । তনয়ার বাবা মাও তো জানে। ছেলেটা তনয়ার বাবার কোচিং প্রাইভেট পড়তে আসতো। তখন থেকেই তনয়ার সাথে লটর পটর।
—তনয়াকে দেখে তো ভালো মেয়েই মনে হয়। তাহলে এত বছর ধরে সম্পর্ক করেও বিয়ে কেন করছে না?
—তা কি জানি! আজকালকার যুগই তো এমন। প্রেম করবে এক সাথে শোবে, নোংড়ামি করবে কিন্তু বিয়ে করবে না।
তনয়া তখন পিঁছনেই ছিলো মহিলা দুটোর কথা শুনে তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে বললো আজ মা থাকলে এমন কথা বলার সাহস কেউ পেতো না। তারপর একটা বুক ভারী করা নিঃশ্বসে ছেড়ে কাজে লেগে পরলো।
সব কাজ শেষে সন্ধ্যা বেলা আয়াতও চলে গেলো। তনয়া তখন ভিষন একা লাগছিলো। একা রুমে কষ্টটা যেনো আরো জোড়ালো হয়ে ওঠে। দুদিন আয়াত তনয়ার পরিবারকে ভিষন ভাবে সাপোর্ট করছে। অবশ্য আয়াত বরাবরই তাদের খুব সাপোর্ট করে।
৩!!
দেখতে দেখতে ছয় মাস যে কিভাবে কেঁটে গেলো তনয়া বুঝতেই পারলো না। কথায় আছে না সময়ের চেয়ে মহাঔষধ পৃথিবীতে কিছু নাই। সময় সব ক্ষত ঠিক করে দেয় কিন্তু হ্যা মনের ভিতরের তিব্র ক্ষতটা সময় ভরিয়ে দিলেও তার দাঁগটা কিন্তু ঠিকই থেকে যায়। তনয়ার মায়ের মৃত্যুর শোকটা মোটামুটি ভাবে কাটিয়ে উঠলেও মায়ের অনুপস্তিতি তনয়া বেশ ভালো করে টের পায়। মা যে কি ছিলো তা তনয়া এখন হারে হারে টের পাচ্ছে।
রোজ তনয়াকে ঘর সামলাতে হয়। নিজের পড়া শুনা, তনিমা আর তনয়ের দেখা শুনা করা। সব মিলিয়ে হিম শিম খায়। তনয়ার মেঝো খালা কদিন পর পর এসে থেকে যায় তখন তনয়া একটু স্বস্তি নিতে পারে। এদিকে সামনে তনিমার এস এস সি পরীক্ষা। সেজন্য তনিমাকেও তনয়ার বাড়তি সময় দিতে হয়। আর তনয়! রোজ দিনে বারবার করে মায়ের কথা জিজ্ঞেস করে। তনয়া তাকে কি উত্তর দিবে তা ভেবে পায় না। তাই চুপ করে থাকে।
আজ প্রায় এক মাস পর তনয়ার সাথে আয়াতের দেখা হচ্ছে। তনয়ার মায়ের চলে যাবার পর আয়াত তনয়াদের বাড়ি যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন জনে বিভিন্ন রকম কথা বলা শুরু করছিলো। তাই তনয়া আয়াতকে ঘন ঘন ওদের বাসায় যেতে নিষেধ করছে। কিন্তু আজ সকাল থেকেই তনয়ার আয়াতকে দেখতে ইচ্ছা করছে। গত একমাস ধরে রোজ শুধু ফোনে কথা হয় সামনা সামনি দেখা হয়নি।
তনয়া আয়াতের ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে দেখে দড়জা তালা দেয়া। আয়াতকে ফোন দিলে আয়াত বললো ভিতরে ঢুকে বসো। আমি আঁধা ঘন্টার মধ্যে আসছি। আয়াতের ফ্ল্যাটের একটা চাবি সবসময় তনয়ার কাছে থাকে। তনয়া দড়জা খুলে ভিতরে গিয়ে বসলো।
একটা বইয়ের দিকে চোখ পড়তেই তনয়া হেসে দিলো।
মনে পরে গেলো আয়াতের বলা কথাটা। আয়াত তনয়াকে বলছে
—-তনয়া কাছে এসো আমি তোমার গালে একটা লম্বা চুমো খাবো।
তনয়া আয়াতের কাছে গেলো সাথে সাথে দুটো শব্দ হলো
ঠাসসসসসসস ঠাসসসসসসস
আর আয়াত কাঁদো কাঁদো দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তনয়ার দিকে।
চলবে————
ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন।
এটা একটা উপন্যাস তাই এটা উপন্যাসের মতই মসলাদার, রোমান্ট্রিক আর ট্রাজেটিক হবে। কেমন লাগলো জানাবেন কিন্তু।
বিঃ দ্রঃ নিচে Next >> ক্লিক করলে পরবর্তী পর্ব পাবেন..!
Facebook Comments
People Came Here By Searching :
Jokes, bangla golper boi, bangla jokes pdf, bengali jokes pdf, bangla jokes book pdf download, gopal bhanrer 111 hasir golpo, bangla jokes pdf free download, bangalir hasir golpo, bdjobs, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes app, school jokes, funny jokes dirty, jokes app, joke book, short funny jokes, jokes in english, dad jokes, funny jokes, jokes, jokes for kids, dirty jokes, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes dirty, short funny jokes, hilarious jokes, clean jokes, really funny jokes, good jokes, funniest jokes ever, funniest joke in the world, inappropriate jokes, short jokes, deez nuts jokes, blonde jokes, bad jokes, offensive jokes, pun jokes, mom jokes, little johnny jokes,
jokes dirty, hilarious jokes, jokes for adults, very funny jokes, funny jokes clean, seriously funny jokes, dad jokes, corny jokes, , seriously funny jokes, funny jokes clean, funny jokes dirty, i need a funny joke, very funny jokes in english, most hilarious joke, funny knock knock jokes, funny jokes for adults, , clean jokes that are actually funny, funniest clean joke ever, greek jokes clean, clean joke of the day, somewhat clean jokes, long clean jokes, edgy clean jokes, i need a funny joke, funny jokes for kids(10-11), sick kid jokes, funny jokes for kids: 100 hilarious jokes, funny jokes for kids(8-9), funny jokes for kids(10-11) in hindi, kids joke of the day, silly jokes, jokes and riddles, , silly jokes for adults, funny silly jokes, 25 silly jokes, crazy silly jokes, seriously funny jokes, very funny jokes, hilarious jokes, awesome jokes, Jokes, bangla golper boi, bangla jokes pdf, bengali jokes pdf, bangla jokes book pdf download, gopal bhanrer 111 hasir golpo, bangla jokes pdf free download, bangalir hasir golpo, bdjobs, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes app, school jokes, funny jokes dirty, jokes app, joke book, short funny jokes, jokes in english, dad jokes, funny jokes, jokes, jokes for kids, dirty jokes, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes dirty, short funny jokes, ilarious jokes, clean jokes, really funny jokes, good jokes, funniest jokes ever, funniest joke in the world, inappropriate jokesshort jokes, deez nuts jokes, blonde jokes, bad jokes, offensive , jokes, pun jokes, mom jokes, little johnny jokes

No comments:
Post a Comment