Breaking

Wednesday, October 16, 2019

Jokes @@@@@@@@@@ কূট-ক্রিকেট @@@@@@@@@@ Best Education Page Jokes

কূট-ক্রিকেট

Jokes @@@@@@@@@@ কূট-ক্রিকেট @@@@@@@@@@ Best Education Page Jokes
রম্য

লেখাটি আগে অন্য  একাধিক ব্লগে অন্য নিকে প্রকাশ করেছিলেম। কৌতুক.কম এর ‘রম্য’ ক্যাটাগরির সূচনালগ্নে  এই লেখাটি  দিয়ে তাই  যাত্রা শুরু করছি।

পিচ্চিবেলায় আমার বিকাল-সন্ধ্যা গড়াইত ক্রিকেট খেলিয়া। সুদূর মালয়-মুল্লুকে আকরাম-বুলবুল বাহিনীর বিজয়ের পর হইতে শুরু, এই খেলা যেন আমাদের হাফপ্যান্ট আর স্যান্ডোগেঞ্জি শোভিত শৈশব পুরাটাই দখল করিয়া লইয়াছিল। হাটে-বন্দরে, ঘরে-অন্দরে, প্রমাদে-প্রমোদে, প্রলয়ে-প্রহলাদে, সাজঘর কিম্বা শ্রেণীকক্ষে, আলস্যে কিম্বা দক্ষযজ্ঞে- প্রায় সর্বত্রই এই ক্রিকেটীয় আলোচনা, পর্যালোচনা আর শিশুতোষ সমালোচনায় সর্বক্ষণ আচ্ছন্ন থাকিতাম। কিছুক্ষেত্রে এই ক্রিকেটপ্রীতি স্বাভাবিকতার সংজ্ঞা অতিক্রম করিয়া যাইত। কোনও কোনও কিশোর বোলিং চর্চা করিবার ছলে জোরসে পাথর ছুঁড়িয়া পাড়ার জেঠুমনির ঝাঁ-চকচকা চাঁদিখানি মনের অজান্তেই অব্যর্থভাবে সই করিয়া বসিত। আবার, খানার টেবিলে কেউবা অবচেতনে ব্যাটিং চর্চা করিতে যাইয়া পাতসুদ্ধ ঝোল-তরকারি পিতৃদেবের মুখমণ্ডলে আছড়াইয়া ফেলিত।

আমাদের ক্রিকেটীয় ক্রীড়াকলাপ চলিতেই লাগিল। বাঁশের কঞ্চির মাথা কয়েক ফালা করিয়া স্টাম্প বানানো হইত। উনানের তল হাতড়াইয়া আনা গদাকৃতি লাকড়ির আগা দা-কুঠারের শৈল্পিক প্রহারে ব্যাটের হাতলের রুপ পাইত, আর গ্রাম জুড়িয়া তো ডুমুর কিম্বা কদবেল গাছের অভাব ছিলনা। তবে সামান্য বড় হইতেই এইসমস্ত গ্রামীণ দ্রব্যাদি উপযুক্ত ক্রিকেটীয় সরঞ্জাম দ্বারা প্রতিস্থাপিত হইয়া গেল। সূক্ষ্মাগ্র বেলনাকৃতির শক্ত স্টাম্পের সামনে ব্রাত্য হইয়া পড়িল শীর্ণকায় বাঁশের কঞ্চি। রংদার কাষ্ঠল ব্যাট আসিয়া রসুইঘরের লাকড়ির কিছুটা সাশ্রয় ঘটাইল আর নিরীহ অবলা ফলগুলিরে বেদম প্রহার হইতে বাঁচাইয়া দিল নির্ভুলভাবে বর্তুলাকার, সবুজ ছাল যুক্ত টেনিসবল।

আসল গল্পে আসি। আমাদের খেলার মাঠের দক্ষিণ পার্শ্বেই আম কাঁঠালের ছায়ার নিচে বাঁধানো ছোট্ট পুকুরঘাট। বৈকালিক অবসরযাপনে সেইখানে আসিয়া গল্পে বসিতেন পাড়াতো বোন ফারিয়াদি, সোনিয়াদি, আফরিন, আইরিনসহ আরো অনেক উঠতি রোমহর্ষক, চিত্তকাননকর্ষক সুন্দরীগণ। তখন কিছুটা মাথাতোলা হইয়াছি বটে। হাফপ্যান্ট ছাড়িয়া ফুলপ্যান্ট পরার চল রপ্ত করিয়াছি। নাকের ঠিক নিচে অপরিপুষ্ট গুম্ফশিশু উঁকিঝুঁকি মারা শুরু করিয়াছে। সরল জীববৈজ্ঞানিক তত্ত্ব অনুযায়ী নারীদের প্রতি মানসিক আর শারীরিক আকর্ষন জন্মাইবার ঊষালগ্নে আসিয়া পড়িয়াছি বলা চলে। রুপশোভায় পুকুরঘাট অলংকৃত করিয়া অপ্সরীদলের প্রত্যেকে হইয়া যাইত যেন একেকজন প্রেরণাদায়িনী (চিয়ারলিডার বলিবনা)। তাহারা ওই জায়গায় আসিয়া বসিলে মনের অজান্তেই ভাল পারফর্ম করিবার একটা উদগ্র বাসনা চাপিয়া বসিত। মনে হইত, বোল্ড করিয়া স্টাম্প উপড়াইয়া ছত্রখান করিয়া দেই, কিম্বা বিশাল ছক্কায় চাঁদায় কিনা বলটারে পগার পার করিয়া সরিষাক্ষেতে ফেলাই।

মাঠের পাশে ওইরকম সুন্দরী-সপ্তক সংস্থিত পুকুরঘাট যেমনটা ছিল তেমনই অনাকাঙ্খিত উপদ্রবের অভাবও ছিলনা বৈকি। এমনই একদিন ক্রিকেটচর্চা করিতেছিলাম। দুইদিন পরই পাশের গ্রামের বিরুদ্ধে স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচ। পাশাপাশি দুই গ্রামের দীর্ঘ বৈরীতার অম্লমধুর ইতিহাস, তাই মর্যাদার লড়াই বলিয়া কথা। গাত্রঘর্ম বিসর্জন দিয়া, অপরপ্রান্তে অরুপরে ব্যাটসম্যান বানাইয়া বোলিং প্রাকটিস করিয়া যাইতেছিলাম। ব্যাটিং করিবার সময় চোখে সরিষাফুল আর চন্দ্রমল্লিকা দেখিলেও বলটা নেহাত খারাপ ছুঁড়িতাম না।

সেই মুহুর্তেই চিরায়ত নিয়মে আমাদের খেলায় বিঘ্ন ঘটাইতে উপস্থিত হইলেন রুবেল ভাই। রুবেল ভাই আমাদের চাইতে ঢের সিনিয়র। পাড়াময় তিনি বিশেষ হম্বিতম্বি আর অদরকারি ঠাঁটবাট আশ্রয় করিয়া চলেন। তিনি ভাল খেলিতেন, অস্বীকার করার কোনপ্রকার জো নাই। উপরন্তু, তাঁহার ভাষ্যমতে আমাদের মতন ‘নাবালেগ’দিগের বোলিং তাঁহার জন্য বড়ই নীরিহ আর নখদন্তহীন। তিনি প্রায়সই সেই বোলিং গরুপেটা করিয়া মাঠের এইপার-ঐপারে ছুঁড়িয়া ফেলিতেন, কিন্তু ইহার পর যেই ভাবখানা লইতেন আর আমাদের উদ্দেশ্যে যেইসব অপমানকর কথামালা ছুঁড়িয়া দিতেন তাহাতেই মস্তক ফুঁড়িয়া অগ্ন্যুৎপাত হইবার উপক্রম হইত। আমাদের বল পিটাইয়া, জোর কন্ঠে নিজের সুনাম গাহিয়া তিনি যে সুন্দরীকুলে একটা অবস্থান তৈরী করার চেষ্টা চালাইতেন তাহা সহজবোধ্য ছিল।

রুবেল ভাই আসিয়া কহিলেন, “ওরে নবজাত শিশুর দল, কয়েকটা বল ছুঁড়তো দেখি।”

জবাবে রোমেল বলিল, “এখন অতশত পারিব না, পরশু ম্যাচ আছে।”

“ওরে ভয় পাস কেনরে? যা যা, আজ না হয় একটু কমই পেঁদাইলাম। তাছাড়া আমাকে আউট করিতে পারিলে বুঝা যাইবে তোদের কার কদ্দুর খেমতা হইয়াছে, বাইরে যাইয়া ম্যাচ খেলিবার মত মরদ হইয়াছিস কিনা।”

শুনিয়া আমার গায়ে কাঁটা দিয়া গেল। জামিল তৎক্ষনাৎ বল হাতে লইল। আমাদের মধ্যে সে-ই সবচাইতে লম্বা আর শক্তপুষ্ট বলিয়া বয়সের তুলনায় ভাল গতিতেই গোলক নিক্ষেপ করিতে পারে সে। কিন্তু রুবেল ভাইরে কাবু করিবার মত সেইটা তেমন যথেষ্ট নহে তা পরক্ষণেই বুঝিতে পারিলাম। আমরা একের পর এক বল করি, আর তিনি সেইটা একবার সোজাসুজি উড়াইয়া সেলিমদের সব্জিক্ষেতে ফেলান, আরেকবার অফসাইডে জোরদার কাভার ড্রাইভ মারিয়া মাঝপুকুরে চুবান। সামান্য বাউন্সার দিবার চেষ্টা করিলে পুল করিয়া বলসমেত পাশের নলখাগড়ার ঝোঁপে অদৃশ্য করিয়া দেন। সেই বলের পিছু ধাওয়া করিতে করিতে আমাদের সকলের প্রাণান্ত।

রুবেল ভাইয়ের অমন মারকাটারি ব্যাটিং দেখিয়া পাশের ঘাট থেকে ফারিয়াদি বলিয়া উঠিলেন- “রুবেল ভাই, আপনার হাতে তো প্রচুর মার। আপনি কি মারিয়া এই পুকুর পার করিতে পারিবেন?”

রুবেল ভাই, সুন্দরি ফারিয়ার দৃষ্টি আকৃষ্ট করিতে পারিয়া লাট বনিয়া গেলেন যেন। তারপর জাফ্রুল্লা শরবতের ঢঙ্গে সোল্লাশে কহিলেন, “আরে সেইটা এমন কি আর ব্যাপার। শুধুমাত্র ব্যাটে বলে দস্তুরমতো হইলে পুকুর কেন, পুকুর ছাপাইয়া সরিষাক্ষেত ভাঙ্গাইতে পারি। আর এইসব ছেলে-ছ্যাঁচড়ের দল, রাষ্ট্রময় ভিক মাঙ্গিয়া বল ক্রয় করিয়াছে। ইহাদের বল হারাইয়া কি এমন উপকার হইবে বল?”

খানিকটা দম লইয়া পরক্ষণেই তাহাদের পুনরায় কহিলেন, “কিন্তু তোমরা কী জানো, সেইদিন কি কাণ্ড করিয়াছিলাম?”

মেয়ে দুইতিনজন সাগ্রহে ব্যাপারখানি জানিতে চাহিলে তিনি বলিলেন, “সেইদিন শামসু-কলোনীর পোলাপান আমারে হায়ার করিয়া লইয়া গেল ওদের হইয়া খেপ খেলিবার জন্য। সেইখানে বিপক্ষের বোলার সবগুলারে এমন মর্মন্তুদ মার মারিলাম যে বল সারাটা সময় আসমানেই চড়িয়া বেড়াইল, একরত্তি ঘাসের দেখাও পায় নাই।”

শুনিয়া আমি একটু বিষম খাইলাম। আমি ইশকুল হইতে ফিরিবার পথে সেই ম্যাচের খানিকটা দেখিয়াছিলাম, সেইখানে উনারে গোটা দশেক বল অপচয় করিয়া ডাক মারিতেও দেখিয়াছি। কিন্তু এইখানে সে ললনাসপ্তকের সম্মুখে একের পর এক যেইভাবে গুল মারিতেছিল, দেখিয়া মেজাজ চড়িয়া গেল।

দক্ষিণ দিক হইতে মুখ সরাইয়াই রুবেল ভাই আমাদের বলিলেন, “ওই ছোকরার দল, আরো কয়টা বল করত দেখি, পিটাইয়া বিলেতে ব্লেয়ারের কাছে পাঠাই।”

বল আরো বার দশেক ছুঁড়িলাম আমি আর আমার দোস্তেরা। ফলাফল একই। বলের উপর জড়ানো টেপ ফাটিয়া চৌচির, আর রুবেল ভাইয়ের আরও খানিকটা নায়কত্বপ্রাপ্তি।

এরপর ঘটিল সেই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আমি বল হাতে লইবার আগে পকেট বিচড়াইয়া টেপ বার করিলাম। বলের উপর আরো কয়েক পরত টেপ পেঁচাইলে বলটা আরো অধিক মোটা আর ওজনদার হইয়া উঠিল। তারপর লম্বালম্বি একপ্রস্থ টেপ আঁটিয়া খাঁটি ক্রিকেট বলের মত ‘সিম’ বানাইয়া লইলাম।

অরুপ জিজ্ঞাস করিল, “কিরে, এইভাবে টেপের শ্রাদ্ধ করিতেছিস কেন? এই জঞ্জালটাতো পিটাইয়া টেপে চীড় ধরাইবে”

-“আরে, বলটা যদি খানিকটা ভারি হয়, তবে ভাল পেস পাইবে। শালায়, বলে পলক দেওয়ার আগে ঝলক মারিয়া উইকেট ভাঙ্গিয়া লইবে।”, জবাব দিলাম আমি।

“আরে ধুর, ছাড়িয়া দে। ব্যাটারে কয়েকটা লুলা স্পিন করিয়া দে। মারিয়া বিদায় হউক।”

কিন্তু আমি টেপ পেঁচাইলাম। এইবার স্বাভাবিকের চাইতে কয়েক কদম বেশি স্টেপ লইয়া বল মারিতে প্রস্তুত হইলাম। মাথায় একটা আইডিয়া জাঁকিয়া বসিল। যেকোন মূল্যে পিছনের একটা উইকেট উপড়াইতে হইবেই, কিন্তু কিভাবে জানিনা। এইবার পাকিদস্যু শোহেব আকতারের মত গা ঝাড়া দৌড় লাগাইয়া, সমস্ত শক্তি ঝাড়িয়া বল মারিলাম। মুখ হইতে আওয়াজ বাহির হইল “আঁ”।

দেখিলাম বলটা কেমন জানি বিষদ একটা বাঁক খাইল। মুহুর্তে ভাবিয়াছিলাম আমার মধ্যে ডেমিয়েন ফ্লেমিংএর আত্মা আসিয়া ভর করিয়াছে হয়তো। পরে অবশ্য জানিয়াছি, তাহা পিচের উপর পড়িয়া থাকা ছোটট একখানি কংক্রিটের টুকরার ইন্দ্রজাল। যাহাই হউক, যাত্রা পথে বলটা ছোট্ট লজ্জারাঙ্গা আরক্তিম কংক্রিটের টুকরায় চুমু দিয়া কেমন একটা পৌরুষপ্রাপ্ত হইলে যেন। দৃষ্টিগ্রাহ্য বাঁক এবং ততোধিক দৃষ্টিভ্রমকর বেগ লইয়া সটান করিয়া রুবেল ভাইয়ের ব্যাটের ফাঁক গলিয়া গেল সেটা। আমি প্রায় হাঁকিয়া উঠিলাম – “বোওওওল্ড”

নাহ! যাহা হইল, বোল্ড হইলে তাহার চাইতে ঢের বেশি ভালই হইত। বৃষভ শক্তি লইয়া, ব্যাটরে ফাঁকি দিয়া সেই বল সোজা গিয়া সদর্পে আঘাত করিল ভাইয়ের উরুসন্ধির জায়গাটা বরাবর। সঙ্গে সঙ্গে রিফ্লাকসিভ একশনে রুবেল ভাই হাঁটুরে ‘দ’ এর মত বাঁকাইয়া সম্মুখে ঝুঁকিয়া গেলেন। ফলে যাহা হইবার তাহাই হইল, বল বেরসিকের মত দৃষ্টিকটু ভাবে ঠিক ওই জায়গায় সাঁটিয়া বসিয়া রইল। বল অনেক মোমেন্টাম লইয়া বড়ই স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্ধিত আঘাত হানিয়াছে, তাই রুবেল ভাই ঠিক ওই অবস্থাতেই নাকে হাত, দিয়া চোখ উল্টাইয়া, সামান্য কাত হইয়া, জায়গাতেই শুইয়া পড়িলেন। বেয়াদপ বল; এখনো বিশ্রীভাবে রুবেল ভাইয়ের গুটানো উরুযুগলের প্রশ্রয়ে পূর্বের জায়গাতেই বহাল রহিয়াছে। আমরা ঠিক এই প্রান্ত থেকে রুবেল ভাই আর সেই বলকে ঠিকঠাক দেখিতেছি, সন্দেহ নাই উপস্থিত বাদবাকি সকল দর্শকও দেখিতেছেন। তিনি পড়িয়া কাতরাইতেছেন। ভাইসাহেবের নীল ট্রাউজারের পটভূমিতে রক্তাভ টেপ আস্তীর্ণ বলটা যেন ফুটিয়া রহিয়াছে। ঠিক যেন বৃটিশ রাজের নীলক্ষেতে, আকাশ হইতে আচানক উল্কাপাতে লোহিত তপ্ত দাবাগ্নি ভর করিয়াছে। দাবাগ্নির দহনে- নীলক্ষেত পুরাই ভস্মভূমি…

ছেলেরা ধরাধরি করিয়া রুবেল ভাইরে বাসায় পৌছাইয়া দিল। আমিও একটু বিব্রত হইয়া মানে মানে কাটিয়া পড়িলাম। নারীদের প্রতিক্রিয়া আর দেখা হয়নাই। তবে যতদূর জানি, রুবেল ভাই পরে অনেক মাস আর খেলায় বাঁধ সাধিতে আসেন নাই, এই ব্যাপারে উনার মনস্তত্ব উনিই ভাল বলিতে পারিবেন। আমিও অনেকদিন মাঠের ঘাস মাড়াই নাই, পাছে না আবার রুবেল ভাইয়ের সামনে পড়ি আর উনি না আবার রাগে ফুঁসিয়া আমারে ঘাঁ কয়েক বসাইয়া দেন।









People Came Here By Searching  :

Jokes, bangla golper boi, bangla jokes pdf, bengali jokes pdf, bangla jokes book pdf download, gopal bhanrer 111 hasir golpo, bangla jokes pdf free download, bangalir hasir golpo, bdjobs, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes app, school jokes, funny jokes dirty, jokes app, joke book, short funny jokes, jokes in english, dad jokes, funny jokes, jokes, jokes for kids, dirty jokes, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes dirty, short funny jokes, hilarious jokes, clean jokes, really funny jokes, good jokes, funniest jokes ever, funniest joke in the world, inappropriate jokes, short jokes, deez nuts jokes, blonde jokes, bad jokes, offensive jokes, pun jokes, mom jokes, little johnny jokes,

jokes dirty, hilarious jokes, jokes for adults, very funny jokes, funny jokes clean, seriously funny jokes, dad jokes, corny jokes, , seriously funny jokes, funny jokes clean, funny jokes dirty, i need a funny joke, very funny jokes in english, most hilarious joke, funny knock knock jokes, funny jokes for adults, , clean jokes that are actually funny, funniest clean joke ever, greek jokes clean, clean joke of the day, somewhat clean jokes, long clean jokes, edgy clean jokes, i need a funny joke, funny jokes for kids(10-11), sick kid jokes, funny jokes for kids: 100 hilarious jokes, funny jokes for kids(8-9), funny jokes for kids(10-11) in hindi, kids joke of the day, silly jokes, jokes and riddles, , silly jokes for adults, funny silly jokes, 25 silly jokes, crazy silly jokes, seriously funny jokes, very funny jokes, hilarious jokes, awesome jokes, Jokes, bangla golper boi, bangla jokes pdf, bengali jokes pdf, bangla jokes book pdf download, gopal bhanrer 111 hasir golpo, bangla jokes pdf free download, bangalir hasir golpo, bdjobs, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes app, school jokes, funny jokes dirty, jokes app, joke book, short funny jokes, jokes in english, dad jokes, funny jokes, jokes, jokes for kids, dirty jokes, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes dirty, short funny jokes, ilarious jokes, clean jokes, really funny jokes, good jokes, funniest jokes ever, funniest joke in the world, inappropriate jokesshort jokes, deez nuts jokes, blonde jokes, bad jokes, offensive , jokes, pun jokes, mom jokes, little johnny jokes



No comments: