স্মৃ
তিমাঃ আপু ১১ টা বাজতে ৫ মিনিট বাকি।
স্মৃতিমার কথা শুনে মায়া তাড়াহুড়ো করে ওয়াশরুম থেকে বের হতে গিয়ে পা স্লিপ করে পরে গেলো।মায়ার ছোট থেকে অভ্যাস শুকনোর উপর উষ্টা খাওয়া। আজও তাই ঘটলো।
মায়ার উষ্টা খাওয়া দেখে স্মৃতিমা হো হো করে হেসে দিল।
মায়াঃ ঐ কুটনি বুড়ি হাসবি না। আরো আগে ডাকলি না কেন?
স্মৃতিমাঃ আমার কি দোষ? তুমি ই তো মাথায় পানি ঢালতে গেলে।আর আমি মোটেও কুটনি না।বুড়ি তো না ই।
মায়াঃ ঢালবো না পানি? তুই সব সময় ঝগড়া করিস।তোর জন্য আমার মাথা গরম হয়ে যায়।
স্মৃতিমাঃ আমি ঝগড়া করি?
মায়াঃ তো কি? আমি করি? (চুল মুছতে মুছতে)
স্মৃতিমাঃ এখন প্লিজ চুপ করো। নইলে তোমার আবার মাথা গরম হয়ে যাবে।
মায়াঃ তুই চুপ কর।
[মায়া। পরিবারের বড় মেয়ে কিন্তু বড় মেয়ের কোন গুন ই তার মধ্যে নেই। কিছু হলেই তার মাথা গরম হয়ে যায় আর মাথায় পানি দেওয়া শুরু করে। আর কেউ কিছু বললেই শুরু হয়ে যায় ন্যাকাকান্না। তিন বার এইচএসসি ফেইল করে এবছর পাশ করে একটা প্রাইভেট কলেজে ভর্তি হলো। পড়া লেখা নিয়ে তার কোন মাথাব্যথা নেই। তার চিন্তা একটাই। তার ক্রাশ।
স্মৃতিমা। মায়ার ছোট বোন। ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। ইচড়ে পাকা। মায়ার ছোট বোন হলে কি! মায়ার অধিকাংশ অত্যাচার ওকেই সহ্য করতে হয় ]
মায়া ফোনের রেডিও টা অন করে ৯৫.২০ চ্যানেল এ টিউন করলো। কয়েক সেকেন্ড পরেই শুনতে পেল তার পরিচিত কন্ঠ।যার বকবক মায়ার কখনোই বিরক্তিকর মনে হয় না।
___________রেডিও___________
Hello
Dear listeners
এখন ঘড়ির কাটা বলছে ১১ টা বেজে ২৫ সেকেন্ড। আপনাদের সাথে আছি আমি RJ Ayan “গানে গানে আড্ডায়”
আশা করি, আপনারা সবাই ভালো আছেন। আর আমি তো এখন অবশ্যই ভালো আছি। কারন…..
না।কারনটা আমি বলবো না। কারন টা আপনারাই বলুন।
ততক্ষণে আমরা একটি গান শুনে আছি। গানটা অবশ্যই আমার খুব পছন্দের। আপনাদের কেমন লাগে সেটাও অবশ্য জানাবেন।
আমাকে এসএমএস করতে মোবাইল এর এস এম এস অপশনে গিয়ে টাইপ করুন আপনার নাম, স্পেস, আপনার লোকেশন, স্পেস আপনার মনের কথা। যা খুশি। আপনার ভালো লাগা। খারাপ লাগা। যা খুশি জানাতে পারেন। আমি শুনবো গানের ফাকে ফাকে। এসএম এস লিখে পাঠিয়ে দিন ২৯২৯ নাম্বারে। চলে যাচ্ছি গানে…..
[রেডিও তে Tumhe apna banane ka গান টা চলছে]
___________________________
মায়াঃ উফফ।তুমি এত রোমান্টিক কেন? আয়ান। তুমি আমার ক্রাশ হিসেবে পুরাই পারফেক্ট। (বলে নিজেও গুনগুন করে গান গাওয়া শুরু করলো)
স্মৃতিমাঃ এই আপু, আয়ান ভাইয়া এত কিউট। ওনার কোন প্রেমিকা নাই? যদি থাকে। তাহলে তো তুমি প্রেম না করেই ছ্যাকা খাবা।
মায়াঃ অ্যা… আয়ানের প্রেমিকা আছে!! ( বলেই ন্যাকা কান্না শুরু করে দিল)
স্মৃতিমাঃ উফফ।আপু। আমি কি বলেছি? যে আছে। আমি বলেছি আছে কিনা! থাকতে ও পারে। এত ফেমাস একটা আরজে। একটা এসএমএস করে জিজ্ঞাস করলেই তো পারো।
মায়াঃ আচ্ছা।কিন্তু রিপ্লাই দিবে তো? ( ঠোঁট উল্টিয়ে)
স্মৃতিমাঃ উফফ। দিয়ে দেখ না।
____________রেডিও ____________
খুব সুন্দর একটা গান শুনে আসলাম।মুড টা আরো ফ্রেস হয়ে গেল।এখন কিছু এসএমএস পরে নেওয়া যাক।
মামুন লিখেছেন রাজশাহী থেকে – ভাইয়া,এত ভালো থাকার কারন কি? নতুন প্রেমে পরেছেন নাকি?
আয়ানঃআরে না, Dear…. আমি প্রেমের উপর পরি না। প্রেম আমার উপর পরেছিল অনেক বছর আগে।
মাহি লিখেছেন নরসিংদী থেকে – আয়ান। তোমার ভয়েস টা খুব সুন্দর । আই লাভ ইউ।
আয়ানঃ ধন্যবাদ। মাহি। আমিও আপনাদের খুব ভালোবাসি। আপনারা সবাই আমার হৃদয়ের অংশ।
মায়া লিখেছেন যাত্রাবাড়ী থেকে – আয়ান, তোমার কি জি এফ আছে? সেই কবে থেকে তোমাকে আমি ভালোবাসি। তুমি আমার #মি_ক্রাশ। আমি কি তোমার বউ হবো না।
[মায়ার এসএমএস পড়ে আয়ান কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল।অন এয়ার পড়ে ও ফেলেছে। তাও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল।]
আয়ানঃ না, মায়া আপু। আমার কোন প্রেমিকা নেই। তবে হ্যাঁ। ভালোবাসা আছে।আপনাদের সবার জন্য।আর আপনি অবশ্যই বউ হবেন তবে তার যাকে বিধাতা আপনার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। যার পাজরেএ হাড় থেকে আপনাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
_______________________________
মায়াঃ দেখলি? আয়ানের কোন জি এফ নেই। তুই আসলে আমাকে হিংসা করিস। আয়ান আমার বড় হবে। তাই তোর হিংসা হয়। হিংসুটে।
স্মৃতিমাঃ আপু, তুমি পাগল হয়ে গেছো।
মায়াঃ তুই পাগল।তুই ছাগল।এখন একদম চুপ। আমাকে মনোযোগ দিয়ে শুনতে দে।
#Part_2
____________সকালে____________
মিসেস রিতু( মায়ার মা)ঃ এই মায়া, উঠ। তুই নাকি আজ কলেজ যাবি?
মায়াঃ হ্যাঁ, যাবো তো। কয়টা বাজে?
মিসেস রিতুঃ ৯ টা।
মায়াঃ কি! তুমি আমাকে আরো আগে ডাকোনি কেন?
রিতু জাহানঃ আপনি এখন ফ্রেশ হয়ে নাশতা করে উদ্ধার করুন। ( বলেই চলে গেল)
মায়া তাড়াহুড়ো করে ফ্রেশ হয়ে নাশতা করার জন্য চলে গেল।
মায়াঃ মা, তোমার কুটনি মেয়ে টা কই?
মিসেস রিতুঃ স্মৃতিমা তোমার মতো অলস না। ও কোচিং এ গেছে। সেখান থেকে স্কুলে চলে যাবে।
মায়াঃ তুমি আমাকে এভাবে বলতে পারলা? মা। আজ আমার ভার্সিটির প্রথম দিন আর তুমি….. (ন্যাকাকান্না করে)
মাহবুব রহমান(মায়া র বাবা)ঃ আজ তোমার ভার্সিটির প্রথম দিন? নাকি তুমি আজকে প্রথম ভার্সিটি তে যাচ্ছ?
মায়াঃ না, মানে….
মাহবুব রহমানঃ থাক।আর বলতে হবে না। তুমি কি করতে চাও, বলো।লেখাপড়া তো ঠিকমতো করছোই না।বিয়েটাও করতে চাচ্ছো না। কি করবে? তুমি।বলো।
মিসেস রিতুঃ এসব কথা থাকনা এখন…
মাহবুব রহমানঃ তুমি চুপ করো রিতু।মেয়েটাকে আর প্রশ্রয় দিও না।
মায়াঃ আব্বু, আমি আরজে আয়ান কে বিয়ে করবো। ( মাথা নিচু করে)
মাহবুব রহমানঃ তুমি আবার এই কথা বলছো? আরজে আয়ান কি তোমাকে বিয়ে করার জন্য বসে আছে? কি যোগ্যতা আছে? তোমার। যার জন্য আরজে আয়ান তোমাকে বিয়ে করবে।
মায়াঃ ঠিক আছে, আব্বু। আমি ভালো ভাবে লেখা পড়া শেষ করে তারপর আরজে আয়ান কে বিয়ে করবো। ( বলেই কলেজের উদ্দেশ্যে চলে গেল)।
রিতু ঃ দেখলে, মেয়েটা না খেয়ে চলে গেল।
মাহবুব রহমান ঃ তুমি ওকে প্রশ্রয় না দিয়ে বুঝাও।
.
.
মায়া রাগ করে কলেজে চলে আসলো। সকাল সকাল বিয়ের কথা শুনে মেজাজ টাই খারাপ হয়ে গেল। তার উপর এই রোদ। মাথায় আগুন জলছে মনে হয়। মায়া রাস্তা পার হচ্ছিল। হঠাৎ দেখে একটা গাড়ি অনেক স্পীডে এগিয়ে আসছে। কি করবে কিছু ভেবে না পেয়ে কানে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে দাড়িয়ে রইল।ভাগ্যিস গাড়িটা ব্রেক করলো।
গাড়ি থেকে একটা ছেলে বের হয়ে মায়াকে ঘুরিয়ে ঠাস করে গালে একটা চড় মারলো।
মায়া গালে হাত দিয়ে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে কান্না করতে করতে বলল- আপনি আমাকে মারলেন কেন?
ছেলেটাঃ এভাবে মাঝ রাস্তায় দাড়িয়ে আছো।মারবো না। তো কি আদর করবো? আজব মেয়ে।
রাস্তায় জ্যাম লেগে গেছে। হর্ন এর আওয়াজ পেয়ে ছেলেটা গাড়িতে উঠে চলে গেল।
মায়া ভার্সিটি তে গিয়ে ক্যান্টিনে চলে গেল নীলের সাথে দেখা করার জন্য। নীল মায়া র কাজিন। নীল মায়ার ছোট কিন্তু মায়া তিনবার ফেল করার কারনে ওরা এখন একই ক্লাসে।
নীলঃ আরে, তোমার এই অবস্থা কেন? থাপ্পড় মারল কে?চাচ্চু? কিছু হইছে? বিয়ে নিয়ে আবার ঝামেলা হইছে?
মায়াঃ আরে থাম,থাম। এরকম কিছুই হয় নাই। রাস্তায় একটা ছেলে থাপ্পড় মারছে।
নীলঃ মানে? কি বলছো? এগুলা।কিছুই তো বুঝতাছি না।
মায়া নীলকে সবকিছু বুঝিয়ে বলল।তারপর নাস্তা করে নিল। মায়া আজও কোন ক্লাস করলো না।
তারপর কথা বলতে বলতে ওরা ভার্সিটি র মাঠের দিকে চলে গেল।নীলের ফোনকল আসল।
নীলঃআমি একটু আসছি।
মায়াঃ কে? গার্লফ্রেন্ড নাকি? ( মুচকি হেসে)
নীলঃ আরে না।আসছি আমি। এখানেই থেকো।
মায়া দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফোন টিপছিল।হঠাৎ সামনের দিকে তাকিয়ে দেখল সেই ছেলেটা ফোন টিপছে আর হেটে সামনের দিকে আসছে, যেই ছেলেটা মায়াকে থাপ্পড় মারছিল।
মায়া ঃছেলেটা যেমন ই হোক।দেখতে মাশাল্লাহ। যেমন হাইট তেমন বডি। পুরাই ক্রাশ। এই মায়া, তুই এগুলা কি ভাবছিস? আয়ান জানতে পারলে কি ভাববে! তোর ক্যারেক্টার এ কি ধুলা জমলো? মায়া। (মায়া মনে মনে কথাগুলো ভাবল)
মায়ার মাথায় একটা বদবুদ্ধি আসলো। মায়া সামনে এগিয়ে ইচ্ছা করে ছেলেটার সাথে ধাক্কা খেল।
ছেলেটা বুঝতে না পেরে Sorry বলে মাথা তুলে উপরের দিকে তাকালো।আর সাথে সাথে মায়া ছেলেটাকে থাপ্পড় মেরে বলল-
মেয়ে দেখলেই ধাক্কা দিতে ইচ্ছা করে। তাইনা? লুচ্চা ছেলে।
আশেপাশের ছেলেমেয়েরা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মায়ার দিকে। মায়া কাউকে পরোয়া না করে সেখান থেকে চলে গেল।আর ছেলেটা রাগে হাত থেকে ফোনটা জোরে আছাড় মারলো।
মায়ার কিছু দূর যাওয়ার পর মনে পরলো নীলের কথা। তাই আবার আগের জায়গায় গিয়ে দাড়ালো।নীল কে কল দিল। ওয়েটিং বলছে। কিছুক্ষণ পর একটা ছেলে এসে মায়াকে একটা ক্লাসরুম দেখিয়ে বললো – একটা ছেলে মায়ার জন্য সেই ক্লাসরুমে অপেক্ষা করছে। মায়া ভাবে, নীল হয়তো পাঠিয়েছে ছেলেটা কে।
মায়া ক্লাসরুমে ঢুকে দেখে সেই ছেলেটা দাড়িয়ে আছে, যেই ছেলেটা কে মায়া একটু আগে লুচ্চা বলেছে। মায়া ক্লাসরুম থেকে বের হওয়ার জন্য পিছনে তাকিয়ে দেখে একজন দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।
মায়া কতক্ষণ দরজা ধাক্কাধাক্কি করলো। দরজা খোলার জন্য রিকুয়েস্ট করলো কিন্তু কোন লাভ হলো না। ব্যর্থ হয়ে আবার ছেলেটার দিকে ফিরে তাকালো।
ছেলেটা দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে এক হাত পকেটে রেখে দাড়িয়ে আছে আর আরেক হাত দিয়ে সিগারেট টানছে আর মায়ার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ জোড়া লাল হয়ে আছে।
মায়ার ভয় লাগছে। তাও সাহস জুগিয়ে ফোন বের করলো নীল কে কল করার জন্য কিন্তু চার্জ না থাকার কারনে ফোন বন্ধ হয়ে আছে। মায়া আবার কতক্ষণ দরজা ধাক্কালো চিল্লালো দরজা খোলার জন্য কিন্তু কোন লাভ হলো না।
মায়া এবার কেদেই দিল। কাদতে কাদতে মাটিতে বসে পরলো।ছেলেটা এখনও মায়ার দিকে তাকিয়ে আছে।
কতক্ষণ পর মায়া ছেলেটার দিকে তাকিয়ে দেখে ছেলেটা সিগারেট পায়ের তলায় চাপা দিয়ে নিভিয়ে মায়ার দিকে এগিয়ে আসছে।
মায়া উঠে দাড়ালো।
মায়াঃ শুনুন।আপনি তখন আমাকে থাপ্পড় মেরেছিলেন তাই আমি আপনাকে থাপ্পড় মারছি। এখন সব শোধ হয়ে গেছে।
ছেলেটা মায়ার একদম কাছে চলে আসছে। মায়া এমনিতেই দেয়ালের সাথে লেগে আছে আর পিছানোর ও জায়গা নেই।
মায়াঃ আচ্ছা। ঠিক আছে। আমার ভুল হয়ে গেছে। Sorry. এই ভুল আর হবে না।
ছেলেটা মায়া র ওড়না টেনে ধরলো।
ছেলেটা ঃ কেন? লুচ্চা বললে। লুচ্চামি দেখবে না?
মায়াঃআমি….
_____________________________
মায়া কিছু বলতে পারলো না। তার আগেই ছেলেটা মায়ার ঠোঁটে কিস করা শুরু করলো। মায়া ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না।
অনেকক্ষণ পার হয়ে গেল কিন্তু ছেলেটা মায়াকে ছারছে না অবশেষে মায়া মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে গেল।
ছেলেটা বুঝতে পারে যে মায়া নিস্তেজ হয়ে পরেছে। তাই তাকিয়ে দেখে মায়া অজ্ঞান হয়ে গেছে।
ছেলেটাঃ আজব। সামান্য চুমুতে কেউ অজ্ঞান হয় কিভাবে?
_____________________________
ছেলেটা ঃ এই যে, কোথায় হারিয়ে গেলেন?
ছেলেটার কথায় মায়া কল্পনার থেকে ফিরলো।
মায়াঃSorry 😣
ছেলেটা ওড়না টা ছেড়ে দিয়ে বললো-
আচ্ছা, মাফ করলাম।
মায়াঃ আমি বাসায় যাবো। (মাথা নিচু করে)
____________চলবে_____________
#Part_3
মায়াঃআমি বাসায় যাবো।
ছেলেটা ঃ না করেছে কে?
মায়াঃ আপনি দেখছেন না? দরজাটা পিছন থেকে লাগানো।
ছেলেটা ঃ তাহলে আমি কি করতে পারি?
মায়াঃ আপনিই তো এগুলো করিয়েছেন। আপনি বললেই তো দরজাটা খুলে দিবে।
ছেলেটা লাইটার দিয়ে সিগারেট ধরিয়ে বলল- ওরা তো এখন চলে গেছে।
মায়াঃফাজলামি করবেন না। আমাকে বাসায় যেতে হবে। অনেক দেরি হয়ে গেছে। আর সিগারেট টা নিভান। আমার অসুবিধা হচ্ছে।
ছেলেটা ঃ আমার কাছে ফোন নেই। তোমার জন্য ফোন টা ভেংগে ফেলেছি।
মায়াঃ আচ্ছা।আমি আপনাকে ফোন কিনে দিব। এখন একটা গঅব্যবস্থা করুন।
ছেলেঃ ঘুষ দিচ্ছো?
মায়াঃ ধরে নেন,তাই।
ছেলেঃ অন্য কিছু দিলে রাজি আছি।
মায়া ভ্রু কুচকে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে রইল।ছেলেটা একটা মুচকি হাসি দিয়ে পকেট থেকে চাবি বের করে দরজাটা খুলল।
ছেলেটা ঃ আসুন। নাকি এখানে থাকার ইচ্ছা আছে?
মায়া বের হয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিল।পিছনে তাকিয়ে দেখে ছেলেটা পিছন পিছন আসছে।
মায়াঃ আপনি আমার পিছে আসছেন কেন?
ছেলেটা ঃ আচ্ছা।তোমার সামনে যাচ্ছি।চলো।তোমাকে বাসায় পৌঁছে দেই।
মায়াঃ কোন দরকার নেই।
ছেলেটাঃওকে।এস ইওর খোয়াইস।
মায়া ভার্সিটি থেকে বের হয়ে গেইট এ দাড়ালো রিক্সা র জন্য কিন্তু রাস্তা পুরা ফাকা।ভয় ও লাগছে। অনেক রাত হয়ে গেছে মনে হয়। ডান পাশে তাকিয়ে দেখলো, কিছুটা দূরে কয়েকটা ছেলে দাড়িয়ে দাড়িয়ে মায়াকে দেখে
হাসাহাসি করছে। কয়েক মিনিট পর মায়া দেখল – ছেলেগুলো ওর দিকে এগিয়ে আসছে। মায়া দৌড়িয়ে গেইট এর ভিতরে ঢুকে গেল।দাড়োয়ান টা কে ও দেখছে না।
মায়া পার্কিং সাইড এ গিয়ে দেখল- সেই ছেলেটা বাইক এর সাথে হেলান দিয়ে সিগারেট টানছে। মায়ার কেন যেন মনে হয় এই ছেলেটা তার কোন ক্ষতি করবে না। তাই ছেলেটার দিকে এগিয়ে গেল।
মায়াঃআমাকে একটু বাসায় পৌঁছে দিবেন? আসলে গেইট এর সামনে কতগুলো ছেলে…..
ছেলেটা ঃআপনিই তো বললেন, কোন প্রয়োজন নেই।
মায়াঃ ভুল হয়ে গেছে। সরি।
ছেলেটা ঃ এমন কোন ভুল না করাই উচিত। যার জন্য সরি বলতে হয়।
ছেলেটা সিগারেট নিভিয়ে বাইকে বসে বলল- চলো।
মায়াঃ বাইকে যাবো?
ছেলেটাঃ হ্যাঁ। কোন সমস্যা থাকলে অন্য ব্যবস্থা করে নাও।
মায়াঃ না। কোন সমস্যা নেই।
চলুন।(বাইকে বসে)
ছেলেটা ঃ কাধে হাত দাও। পরে বাইকে থেকে পরে গেলে কিন্তু আমি হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারব না?
মায়াঃ কেন? আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কি হবে?
ছেলেটা ঃ তোমাকে আমি হাসপাতালে নিয়ে যাবো। পরে নার্স ভাববে আমরা সামী স্ত্রী। তাই তোমার ভর্তি ফর্মে লিখবে আমি তোমার সামী।আমার তোমার সামী হতে বয়েই গেছে। শুধু শুধু মান ইজ্জতের ফালুদা হবে।
ছেলেটা র কথা শুনে মায়ার মেজাজ টা ই খারাপ হয়ে গেল।বিপদে পরেছে তাই কিছু বলতেও পারছে না। ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে মাথায় পানি ঢালতে শুরু করলো।
ছেলেটা মায়া র কান্ড দেখে বলল- আজব।
মায়াঃ হ্যাঁ, আজব ই।এবার চলুন।
মায়ার চুল থেকে পানি গড়িয়ে মুখ বেয়ে গলায় আসছে। ওড়না কিছুটা ভিজ গেছে।ছেলেটা পকেট থেকে রুমাল বের করে মায়াকে দিল।মায়া রুমাল টা নিয়ে পানি মুছে নিল।
ছেলেটা মায়াকে বাসার সামনে নিয়ে আসলো।
মায়াঃ আপনি আমার বাসা চিনলেন কিভাবে?
ছেলেটা মুচকি হেসে চলে গেল।মায়া পিছন থেকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বাসায় ঢুকার জন্য এগিয়ে দেখে নীল দাড়িয়ে আছে।
নীলঃ এই তুমি কই ছিলা?ফোন ও বন্ধ। আমি তোমার বাসা র ল্যান্ড লাইনে কল দিছিলাম স্মৃতিমা বলল- তুমি বাসায় যাও নি। পরে আমি আর স্মৃতিমা প্লান করে চাচ্চুকে মিথ্যা বলেছি যে তুমি আর আমি আমার এক বন্ধুর বাসায় আসছি।
মায়া নীল কে সব ঘটনা বলল।
নীলঃ কি! সাহস কত বড়? কালকে দেখিয়ে দিও তো ছেলেটা। ওর একদিন কি, আমার একদিন।
মায়াঃ থাম তো। নিজেকে আয়নায় দেখছিস? ফু দিলে তো উরে যাবি।
নীলঃতাই নাকি? দাও। ফু দাও। না উরলে কালকে তুমি ট্রিট দিবা।
মায়াঃ ঐ চলতো। বাসায় চল।
বাসায় গিয়ে মায়া স্মৃতিমা র সাথে ঝামেলা শুরু করে দিল।
মায়াঃ এই কুটনি বুড়ি। এই।আমি গতকাল রাতে ঘুমিয়ে গেছিলাম, তুই আমাকে ডাকলি না কেন? আমি আয়ান এর শো টা সম্পূর্ণ শুনতে পারলাম না। তোর জন্য ঝাকড়া চুলওয়ালি।
স্মৃতিমাঃ আপু, আমার চুল নিয়ে কোন কথা বলবা না। আমার চুল যথেষ্ট সুন্দর। তাই না? নীল। ( মুচকি হেসে)
মায়াঃ এই। নীল কি? হ্যাঁ? নীল কি? নীল তোর বড়? না ছোট? নীল ভাইয়া বলবি। ঐ নীল তুই কিছু বলিস না কেন?
নীলঃ আমি কি বলব!
মায়াঃ হ্যাঁ। তাইতো। তুই কি বলবি! তুই তো শান্তশিষ্ট নিরীহ প্রানী।তুই কিছু বলতে পারিস নাকি!
ঢং😒 ঢং দেখলে গা জলে যায়।
মায়ার মাঃ তুই গিয়ে মাথায় পানি ঢাল। যা। অনেক ঝগড়া করছিস।
মায়াঃ আমি ঝগড়া করি?
মায়ার মাঃ না।আমি করি। এবার তুই যা তো মা। শান্তি দে।
মায়া চলে গেল। ফ্রেস হয়ে সবাই একসাথে ডিনার করে নিল। তারপর অপেক্ষা করা শুরু করে দিল রাত ১১ টা বাজার জন্য।
আজকে মায়া আর স্মৃতিমা র দলে নীল যোগ দিল।
নীলঃ আপু, তুমি কি আরজে আয়ান কে দেখেছো?
মায়াঃ না।
নীলঃ না দেখেই আয়ান তোমার ক্রাশ হয়ে গেল? কেমনে কি!
মায়াঃ ক্রাশ হওয়ার জন্য চেহারা লাগে নাকি! আয়ানের ভয়েস শোন। কত্ত কিউট! কি সুন্দর করে কথা বলে। কথাগুলা কেমন আধ্যাত্মিক টাইপ এর। এখন মনোযোগ দিয়ে শোন তো।
____________রেডিও ____________
আয়ানঃ আজকে আমি আমার সব বন্ধুদের সমস্যার কথা শুনতে চাই। কার লাইফে কি সমস্যা চলছে। হয়তো সমাধান করতে পারব না। তবে নিজের ক্ষুদ্র বুদ্ধি দিয়ে সমাধান বের করার চেষ্টা অবশ্যই করবো। তাছাড়া মনের কথা শেয়ার করলে মন হালকা লাগে। তাহলে শুরু করা যাক। কিছু এস এম এস পড়ছি।
হাবিব লিখেছে ধানমন্ডি থেকে- ভাইয়া আমার গার্লফ্রেন্ড আমাকে শুধু প্যারা দেয়। এটা করতে পারব না, সেটা করতে পারব না। সিগারেট নিয়ে তার সবচেয়ে বেশি সমস্যা। এই জন্য আমার তাকে অনেক মিথ্যা ও বলতে হয়।
আয়ানঃ হুম। বর্তমান জেনারেশন এর এটা খুব বড় ধরনের সমস্যা। এখন প্রশ্ন টা হচ্ছে আপনার গার্লফ্রেন্ড যে আপনাকে প্যারা দিচ্ছে। সেটা কি শুধুই প্যারা? নাকি ভালোবেসে করা নিষেধ।
তারচেয়ে ও বড় প্রশ্ন সেকি শুধুই আপনার গার্লফ্রেন্ড? নাকি ভালোবাসা? যদি ভালোবাসা হয়ে থাকে তাহলে নিজের ভালোবাসার জন্য এরকম সিগারেট নামক হাজার নেশা ছাড়া যায়। কারন ভালোবাসার নেশা সবচেয়ে বড় নেশা।
_______________________________
সকালে মায়া আর নীল একসাথে নাস্তা করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরলো৷ দুজনে আজ ক্লাস করবে। দুজনে অনার্স এর শিক্ষার্থী। মনোবিজ্ঞান বিষয়। নীল অবশ্য অন্য বিষয়ে পড়তে চেয়েছিল। মায়া র পাল্লায় পরে বিষয় টা নিলো।
দুজনে ক্লাসে বসে আছে। স্যার ক্লাসে ঢুকল। সবাই দাড়ালো। মায়া তাকিয়ে দেখলো গতকালের সেই ছেলেটা। সবাই বসে পরলো। মায়া দাঁড়িয়ে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আছে। ছেলেটা এতক্ষনে মায়া কে দেখল। অনেকটা অবাক ও হলো। নীল মায়া কে হাত ধরে টেনে বসিয়ে দিল।
নীলঃ কি হয়েছে? ঠিক আছো? তুমি।
মায়াঃ এইটা ই তো গতকালের ছেলেটা।
নীলঃ কি! উনি তো মনোবিজ্ঞান বিভাগ এর টিচার। আরিয়ান চৌধুরী। ওনাকে দেখে তো এরকম ছ্যাচরা মনে হয় না।
আরিয়ানঃ এই যে, লাস্ট ব্যাঞ্চ। এটা ক্লাস রুম। পার্ক না। এটা কথা বলার জায়গা না। সামনের ব্যাঞ্চে জায়গা আছে। সামনে এসে বসুন।
__________চলবে___________
People Came Here By Searching :
Jokes, bangla golper boi, bangla jokes pdf, bengali jokes pdf, bangla jokes book pdf download, gopal bhanrer 111 hasir golpo, bangla jokes pdf free download, bangalir hasir golpo, bdjobs, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes app, school jokes, funny jokes dirty, jokes app, joke book, short funny jokes, jokes in english, dad jokes, funny jokes, jokes, jokes for kids, dirty jokes, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes dirty, short funny jokes, hilarious jokes, clean jokes, really funny jokes, good jokes, funniest jokes ever, funniest joke in the world, inappropriate jokes, short jokes, deez nuts jokes, blonde jokes, bad jokes, offensive jokes, pun jokes, mom jokes, little johnny jokes,
jokes dirty, hilarious jokes, jokes for adults, very funny jokes, funny jokes clean, seriously funny jokes, dad jokes, corny jokes, , seriously funny jokes, funny jokes clean, funny jokes dirty, i need a funny joke, very funny jokes in english, most hilarious joke, funny knock knock jokes, funny jokes for adults, , clean jokes that are actually funny, funniest clean joke ever, greek jokes clean, clean joke of the day, somewhat clean jokes, long clean jokes, edgy clean jokes, i need a funny joke, funny jokes for kids(10-11), sick kid jokes, funny jokes for kids: 100 hilarious jokes, funny jokes for kids(8-9), funny jokes for kids(10-11) in hindi, kids joke of the day, silly jokes, jokes and riddles, , silly jokes for adults, funny silly jokes, 25 silly jokes, crazy silly jokes, seriously funny jokes, very funny jokes, hilarious jokes, awesome jokes, Jokes, bangla golper boi, bangla jokes pdf, bengali jokes pdf, bangla jokes book pdf download, gopal bhanrer 111 hasir golpo, bangla jokes pdf free download, bangalir hasir golpo, bdjobs, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes app, school jokes, funny jokes dirty, jokes app, joke book, short funny jokes, jokes in english, dad jokes, funny jokes, jokes, jokes for kids, dirty jokes, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes dirty, short funny jokes, ilarious jokes, clean jokes, really funny jokes, good jokes, funniest jokes ever, funniest joke in the world, inappropriate jokesshort jokes, deez nuts jokes, blonde jokes, bad jokes, offensive , jokes, pun jokes, mom jokes, little johnny jokes
Monday, October 21, 2019
Home
bangla jokes 2018
bangla jokes sms
funny jokes bangla new
Jokes
jokes in english
jokes pic
jokes video
very funny jokes
Jokes @@@@@@@@@@ Mr Crush😍 @@@@@@@@@@ Best Education Page Jokes
Jokes @@@@@@@@@@ Mr Crush😍 @@@@@@@@@@ Best Education Page Jokes
Tags
bangla jokes 2018#
bangla jokes sms#
funny jokes bangla new#
Jokes#
jokes in english#
jokes pic#
jokes video#
very funny jokes#
Share This
About Anonymous
very funny jokes
Labels:
bangla jokes 2018,
bangla jokes sms,
funny jokes bangla new,
Jokes,
jokes in english,
jokes pic,
jokes video,
very funny jokes
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
Md Hridoy Hossain
I am the person who knows how to enjoy my life as it is the best gift everyone is given. I never give up and have an optimistic approach to all situations that can occur on my way. I appreciate traditional values and still believe in real friendship and sympathy to others. I am sure our world depends on us, I mean the way we treat each other. Well, everything in our hands and love is not an exception. I am here and ready to change my life, to complete it I Belive that Nothing is Impossible if we try enough. I didn't like to follow i liked being followed.

No comments:
Post a Comment