ভার্সিটি থেকে বের হয়ে মেয়েটি হাটতে হাটতে হলের দিকে যাচ্ছে,খুবই সহজ সরল প্রানবন্ত মেয়ে চারুলতা,দেখতে কিছুটা শ্যামবর্নের হলেও চেহারায় একটা আলাদা লাবণ্য আর মায়াবি ভাব আছে,তখনই পিছন থেকে কেউ যেন ডাক দিলো,
-এই চারু এইদিকে একটু শোন
চারুলতা পিছনে ফিরে ওদিকে এগিয়ে গেল, ওখানে কয়েকজন ছেলে মেয়ের সাথে ওর বান্ধুবী মায়া বসে আছে
কিরে মায়া কিছু বলবি!
– আমরা এই দিকে আড্ডা দিচ্ছি আর তুই ক্লাস শেষ হতে না হতেই আমাকে রেখে হলের দিকে চলে যাচ্ছিস !
চারুলতা একটু হেসে বললো তুই তো জানিসই আমি ছেলেদের সাথে তেমন একটা মিশি না!
-আরে এটা ভার্সিটি লাইফ এখানে ছেলে মেয়ে সবাই বন্ধু, স্কুল কলেজে তোর কোনো ছেলে ফ্রেন্ড ছিলো না বলে কি ভার্সিটিতেও হবে না !
চারুলতা বললো, কিন্তু আমার ছেলেদের সাথে মিশতে ভালো লাগে না,তুই থাক আমি হলে যাব, কাল পরীক্ষা আছে পড়তে হবে।
মায়া বিরক্তি নিয়ে বলছে -উফ,তোর সব সময় শুধু পড়াশোনা আর পড়াশোনা ! আচ্ছা যা
.
চারুলতা হলে গিয়ে ফ্রেস হয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই ঘুমিয়ে গেল,মোটামুটি ভালো স্টুডেন্ট হওয়ায় কলেজ পাশ করার পর একটা নামকরা ভার্সিটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছে,তাই নিজের শহর আর পরিবার ছেড়ে এই প্রথম অন্য একটা শহরে এসে একা থাকছে, তাই নতুন জায়গা নতুন এলাকাতে মানিয়ে নিতে একটু কষ্টই হচ্ছে, চারুলতা খুব শান্ত আর ভদ্র একটা মেয়ে, ক্লাসের দুই একজন বান্ধুবী ছাড়া অন্য কারো সাথে তেমন একটা কথা বলে না,
.
পরদিন ক্লাসে পরীক্ষা আরম্ভ হবে তখনই একটা ছেলে ক্লাসের ভিতরে এসে বসার জন্য সিট খুঁজতে থাকে কিন্তু চারুলতার পাশের সিট ছাড়া আর কোথাও সিট ফাকা নেই,ছেলেটি এসে চারুলতার পাশের সিটে বসলো,চারুলতা একবার সেদিকে বিরক্তির ভঙিতে তাকিয়ে দেখলো, আর ব্যাগ থেকে কলম বের করতে করতে মনে মনে বলছে,
-ধ্যাত আমি তো ছেলেদের সাথে বসি না ! এটা আবার কোথা থেকে এলো, আরে আমার ক্যালকুলেটর টা কোথায়! হায় হায় আমি তো মনে হয় ওটা রুমেই ফেলে এসেছি! শিট!
পরীক্ষা শুরু হলে চারুলতা প্রশ্নের দিকে তাকিয়ে বসে আছে, ম্যাথমেটিক্যাল সাব্জেক্টের পরীক্ষা তাই এখন আর কিছুই করার নেই, লিখতে না পাড়ায় চারুলতা কান্না করা শুরু করে দিলো,তখন পাশের ছেলেটি এদিকে তাকিয়ে বলছে,এ্যানি প্রবলেম চারুলতা !
– আমি ভুল করে আমার ক্যালকুলেটর রুমে ফেলে এসেছি,!
-ও এই কথা, তুমি আমার ক্যালকুলেটর নিতে পারো,
চারুলতা আর কিছু না ভেবে ক্যালকুলেটরটা নিয়ে পরীক্ষা দিলো, পরীক্ষা শেষে চারুলতা ছেলেটাকে ওটা ফেরত দেওয়ার সময় বলছে, থ্যাংকস! কিন্তু তুমি আমার নাম জানলে কিভাবে?
– আজব তো ! একই ক্লাসে পড়ি আর নাম জানবো না? তোমাকে তো ক্লাসে আর মায়ার সাথে সব সময় দেখি,তুমি তো মায়া আর কয়েকজন মেয়ে ছাড়া ক্লাসের কারো সাথে তেমন কথাই বলো না, আমাদের চিনবে কিভাবে,!
চারুলতা বললো-আমি আসলে ছেলেদের সাথে তেমন একটা কথা বলি না,
তখনই মায়া ওখানে এসে বললো, হ্যাপি বার্থডে কাব্য…! তোর কিন্তু ট্রিট দেওয়ার কথা ছিল..
ছেলেটা মায়ার দিকে তাকিয়ে বলছে, খালি খাই খাই তাই না..! ঠিকাছে চল..
চারুলতা ছেলেটাকে বললো, আজকে তোমার বার্থ ডে..! হ্যাপি বার্থ ডে,
কাব্য মুচকি হেসে বললো, থ্যাংকস !
মায়া এবার চারুলতার হাত টেনে ধরে বলছে, কিরে তুই এখনো বসে আছিস ক্যান,ওঠ! যাবি না?
– আমি কেন যাব.. তোরা যা..আমি হলে চলে যাচ্ছি
– দেখ চারু তুই সব সময় ঝামেলা করিস চল তো, ও হচ্ছে কাব্য, আমাদের গ্রুপের ফ্রেন্ড,! আর আমাদের ফ্রেন্ড মানে তো তোর ও ফেন্ড,
চারুলতা বললো, তোরা যা, প্লিজ আমাকে এর মধ্যে টানিস না,
.
চারুলতা ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে তানিয়ার সাথে হলে চলে গেল, বিকেল বেলা একটা ফোটোকপির দোকানে কিছু শিট কপি করার সময় তখনকার ওই ছেলে কাব্য এর সাথে আবার দেখা হলো,
কাব্য চারুলতা কে দেখে বলছে, হাই চারুলতা!
চারুলতা বিরক্তির ভঙিতে বললো, হাই !
– আচ্ছা তোমার ফোন নাম্বারটা দেওয়া যাবে ?
চারুলতা অবাক হয়ে বলছে, কেন? কি দরকার?
– না মানে এমনিতেই, এক সাথে পড়ি ফোন নাম্বার কি থাকতে পারে না !
চারুলতা বললো, সরি আমি ছেলেদেরকে ফোন নাম্বার দেই না, আমি শুধু মেয়েদের সাথে কথা বলি,
চারুলতা ওখান থেকে চলে আসলো, রাতের বেলা ব্যাগ থেকে শিট বের করতে গিয়ে দেখলো ব্যাগে একটা শিট নেই,
– উফ! তার মানে ওটা ফোটোকপির দোকানেই ফেলে এসেছি! ও শিট কাল পরীক্ষা! আর এখন তো ফোটোকপির দোকানটাও বন্ধ হয়ে গেছে,
.
মায়া চারুলতার অস্থিরতা দেখে বলছে,কিরে কি হয়েছে?
– আর বলিস না, ফোটোকপির দোকানে শিট ফেলে এসেছি,
মায়া বললো, তো এত টেনশনের কি আছে, কাল গিয়ে পাবি,৷
– আরে আজ রাতে পড়বো কিভাবে কাল তো পরীক্ষা,
তখনই মায়ার ফোনে কাব্য কল দেয়,
– হ্যাঁ কাব্য বল
– আমি তোর হলের সামনে, চারুলতা একটা শিট ফেলে রেখে এসেছে,ওটা দিতে এসেছি,ওকে হলের নিচে আসতে বল,
চারুলতা অবাক হয়ে এটা শুনে নিচে নেমে এসে কাব্য এর থেকে শিট নিলো
– তুমি কিভাবে আমার শিট পেলে,আর কষ্ট করে এটা দিতেও এসেছো,
– আরে তুই আজ যেভাবে পরীক্ষার হলে কান্না করছিলি এখন আবার এই শিট না পেলে হার্ট ফেল ও করতে পারিস কারন কাল পরীক্ষা..! তাই দিতে এলাম….ওপস! সরি তুই করে বলে ফেলেছি..
– না না… ঠিকাছে.. অনেক ধন্যবাদ শিট নিয়ে আসার জন্য..
– আমি ফোটোকপির দোকানের ভিতরে যেতেই দোকানদার মামা বললো,ওটা তোমার..! তুমি ফেলে গেছো,
– ঠিকাছে কাব্য…বাই
.
চারুলতা রুমে আসতেই মায়া বলে উঠল, তোর শিট পেয়েছিস,? টেনশন কমেছে ?
– হুম,
– দেখেছিস কাব্য ছেলেটা কত ভালো, তুই ওকে ফ্রেন্ড করতেই পারিস, ফেসবুকে ওকে এড কর, কখন দরকার লাগে না লাগে,আর ও তো আমাদের গ্রুপেরই, অনেক হেল্পফুল একটা ছেলে..
– আমার তো ফেসবুক আইডিই নেই…!
– উফ.. তুই যে কি চারু… এই যুগে এসেও তুই যে কোন যুগে পরে আছিস..এখন একটু স্মার্ট হ…এটা ভার্সিটি লাইফ..ফ্রেন্ডেদের সাথে কানেক্ট থাকতে হয়…দে তোর আইডি খুলে দেই…
– কিন্তু মায়া আমি ছেলেদের সাথে কানেক্ট থাকবো…?
মায়া বললো..আজব তো তাতে সমস্যা কি !
– মানে ছেলেদের আমার কেমন যেন মনে হয়, দেখলি না আমাকে কয়েকজন সিনিয়র ভাইয়া প্রপোজ করেছে, আমার ছেলেদের খুব একটা সুবিধার মনে হয় না, মেয়েদের সাথে প্রেম করা ছাড়া ওরা কিচ্ছু বোঝে না, খুব খারাপ হয় ওরা,
মায়া বললো, আরে সবাই কি শুধু প্রেমই করতে চাইবে..? ফ্রেন্ড কি থাকবে না..! আর ফেসবুকে সেরকম কিছু কেউ বললে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিবি,ব্যাস!
.
নতুন ফেসবুক আইডি খুলার পর চারুলতার সব কিছুই নতুন লাগতে শুরু করে…কারন এসবের সাথে সে আগে পরিচিত ছিলো না.. হলের বান্ধুবীদের দেখাদেখি চারুলতাও এখন ছেলেদের সাথে ফেসবুকে চ্যাটিং করা এবং ক্লাসেও এসেও কথা বলা শুরু করেছে,এর মধ্যেই ক্লাসে একদিন চারুলতা অচেতন হয়ে যায়, মায়া আর কাব্য ওকে হসপিটালে নিয়ে গেল, ডাক্তার ওকে দেখে বলছে, ওর শরীরের রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমান খুব কম আর ঠিক মত খাওয়া দাওয়াও করে না,তাই শরীর খুব দুর্বল,
তখন চারুলতাকে স্যালাইন দেওয়া থেকে শুরু করে ঔষধপত্র, এবং হসপিটালের বিল সবকিছু কাব্যই দিয়ে দেয়, এমনকি ওইদিন চারুলতার জন্য বাহিরে থেকে খাবার আর ফলমূল এনে দিয়েছে,
একটু সুস্থ হলে চারুলতা মনে মনে ভাবছে,ছেলেটাকে যতটা খারাপ মনে করেছিলাম ততটা খারাপ নয়,একে আমার ফ্রেন্ড করাই যায়,
.
এরপর চারুলতার সাথে কাব্য এর ফ্রেন্ডশিপ হয়ে গেল, শুধু ফ্রেন্ড নয় এখন চারুলতার সাথে কাব্য এর খুব ভালো বন্ধুত্বই হয়েছে, চারুলতা এখন শুধু ক্লাসের একটা ছেলের সাথেই মিশে সে হচ্ছে কাব্য, ক্যাম্পাসের সব জায়গায় সব কিছুতে সে শুধু কাব্য এর সাথেই ঘোরে,
কাব্য চারুলতাকে বলছে,তোকে তো অনেক ছেলেই প্রপোজ করে কিন্তু তুই একসেপ্ট করিস না ক্যান…! একটা কেও কি তোর ভাল লাগে না…
– না রে কাব্য, চিনি না জানি না,কিভাবে তাকে একসেপ্ট করি বল,তা তোর কেন গার্লফ্রেন্ড নেই..?
– মনের মত কাউকে পাই নি,পেলে তোর ভাবি বানাতে বেশি সময় লাগবে না,
– আচ্ছা….তাই নাকি..
.
কাব্য আর চারুলতা ক্যাম্পাস থেকে বের হতেই কাব্য এর পরিচিত এক বড় ভাইয়ের সাথে ওর দেখা হয় ,কাব্য যখন ওর বড় ভাইয়ের সাথে কথা বলছিলো তখন সেই বড় ভাই বার বার শুধু চারুলতার দিকে দেখছিলো,চারুলতাও একবার ছেলেটার দিকে তাকাতেই তার চোখে চোখ পরলো, ছেলেটা দেখতে হ্যান্ডসাম আর নায়ক নায়ক ভাব । কথা শেষ হলে কাব্য আবার যখন চারুলতার সাথে হাটতে শুরু করলো তখন চারুলতা বলে উঠল, কে উনি? উনি কি আমাদের ক্যাম্পাসের কেউ ?
– না, উনি ফজলে রাব্বি, এখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে আর আমাদের থেকে দুই বছরের সিনিয়র, আমার এলাকার পরিচিত বড় ভাই তাই এখানে মাঝের মধ্যেই দেখা হয়, ক্যান বলতো পছন্দ হইছে নাকি..? অবশ্য তাকে দেখে তো আবার সব মেয়েই ক্রাশ খায়…
– ধুর…হয়তো উনার গার্লফ্রেন্ড আছে..!
– আর যদি না থাকে তখন কি করবি..
– কাব্য কি বলিস এসব….আমার আবার এসব হয় নাকি.. আমার ছেলেদের একদম বিলিভ হয় না.. ছেলেরা শুধু মেয়েদের ধোকা দেয়… এই পর্যন্ত কত বান্ধুবীকে দেখলাম তাদের বয়ফ্রেন্ড ওদের ধোকা দিয়েছে..আর তারপর তাদের কি কান্না..! কেউ কেউ তো নিজের জীবনই শেষ করে দিয়েছে…
– ওরে আমার চারুলতারে সব ছেলে এক নয়, এই ধর আমি, আমি কাকে ধোকা দিয়েছি বলতো, জীবনে তো কারো সাথে প্রেমই করি নি,
– হয়েছে থাক কাব্য প্রেম করলে তো তার বান্ধুবী চারুলতাকে ভুলেই যাবে তারচেয়ে বরং এভাবেই ভালো আছে
– তোর কেমন ছেলে পছন্দ..?
– এই ধর ছেলে সব কিছুতেই সেরা হবে একদম নায়ক…! যেমন রুপে গুনে আচরনে সব দিক দিয়েই পারফেক্ট, সেই হবে আমার জীবনের নায়ক!
.
চারুলতা রুমে এসে ফোনটা বের করে ফেসবুকে ঢুকতেই দেখতে পায় ফজলে রাব্বি নামে একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট, নামটা দেখে খুব অবাক হয় আর ছবিটা দেখে চিনতে একটুও অসুবিধা হলো না যে এটাই সেই কাব্যর পরিচিত বড় ভাই , যার সাথে আজই দেখা হয়েছিলো, ছবিটা দেখে তো মনে হচ্ছে পুরাই হিরো, এমন একজনকেই তো চারুলতা মনে মনে চায়, কিন্তু দেখতে সুন্দর হলে কি হবে, মানুষটা যে কেমন তা তো বোঝা যাচ্ছে না….চারুলতা মনে মনে ভাবছে..ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করাই যায়, একটা হ্যান্ডসাম ছেলে ফ্রেন্ডলিস্টে থাকলে খুব একটা ক্ষতি হবে না , চারুলতা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করার দুই দিন পর রাব্বি ছেলেটা ওকে মেসেজ করে, চারুলতা টুকটাক রিপ্লাই করলো, এরপর আরও অনেক চ্যাটিং হয়, তারপর চারুলতা জানতে পারে রাব্বির এখন কোনো গার্ল ফ্রেন্ড নেই, কিছুদিন আগেই ওর ব্রেক আপ হয়েছে,রাব্বি ওকে অনেক ভালোবাসতো কিন্তু মেয়েটা নাকি ওকে ধোকা দিয়েছে, এটা শুনে চারুলতার খুব খারাপ লাগে তখন রাব্বির প্রতি একটা মায়া কাজ করে, রাব্বির কথা বার্তা শুনে রাব্বিকে ভালো ছেলে বলেই মনে হলো, তাই রাব্বির সাথে চারুলতার এখন সব সময় কথা হয়, চারুলতা ওর ফোন নাম্বার রাব্বিকে দিয়েছে, চারুলতা কাব্যকে যেরকম বিলিভ করে রাব্বিকেও ওরকম ভাবে বিলিভ করা শুরু করে,একটা আলাদা ভালো লাগা কাজ করা শুরু করে দিয়েছে রাব্বির প্রতি, কেন যেন রাব্বির সাথে কথা বলতে ওর খুব ভালো লাগে,
.
প্রায় এক মাস পর এমনি একদিন রাব্বির সাথে ফোনে কথা বলার সময় রাব্বি জানায় ওর নাকি চারুলতাকে পছন্দ হয়েছে , চারুলতার এটা শুনে বুকের ভিতরে ধুকপুক করা শুরু করে, কারন চারুলতারও যে রাব্বিকে ভালো লেগে গেছে, আর একটা মেয়ে ওকে ধোকা দিয়েছে এটা মনে হলেই ওর প্রতি খুব মায়া হয়, আর এমনিতেই তো ওর প্রতি একটা আর্কষন কাজ করে, ছেলেটা কি সুন্দর করে কথা বলতে পারে, মনে হয় তার কথায় যাদু আছে শুধু মুগ্ধ হয়ে শুনতেই ইচ্ছে হয়, এমন একটা ছেলের সাথে কেউ এমন করে…? ইস আমার তো মনে হয় ওকে ভালোবাসি খুব ভালোবাসি, চারুলতা মনে মনে ভাবছে, আমি মনের হয় আমার জীবনের নায়ককে পেয়ে গেছি, ও সব দিক দিয়েই পারফেক্ট..!
.
চারুলতা ছেলেদের সাথে তেমন মিশতো না বলেই সে জানতা যে ছেলেরা এত সহজেই এভাবে একটা মেয়েকে পটাতে পারে, চারুলতা খুব সহজ সরল বলেই কাব্যর মতোই রাব্বিকেও বিলিভ করেছে, রাব্বির সব কথা গুলো সে বিলিভ করেছে, তাই চারুলতার মনে রাব্বি জায়গা করে নিয়েছে আর চারুলতা এখন তার ভালো লাগার কথাটা রাব্বিকে জানালো, এরপর চারুলতা কাব্যকে রাব্বির বিষয়ে জানায় যে সে রাব্বির সাথে রিলশনে যেতে চায়,
কাব্য বললো, ফাইনালি তাহলে চারুলতার মনে কেউ জায়গা দখল করে নিয়েছে তাহলে আমার এবার দিন শেষ…! তুই তোর নায়ককে পেয়ে গেছিস..!
– কি বলিস কাব্য তুই তো তুইই থাকবি..
– হুম… সেটা দেখা যাবে..এখনি বয়ফ্রেন্ড পাইয়া আমারে ভুইয়া যাইতাচোস..
.
চারুলতার সাথে রাব্বির এখন সারাদিন ফোনে কথা হয়, কিন্তু ওদের সামনাসামনি এখনো দেখা হয় নি তার আগেই কাব্য একদিন রাব্বিকে অন্য একটা মেয়ের সাথে হাত ধরে ধুরতে দেখলো, বিষয়টা খুব সুবিধার মনে হলো না,কাব্য চারুলতাকে বললো – তুই যা করছিস ঠিক করছিস না..ওসব বাদ দে..
– মানে..! কি বলতে চাস তুই..
– মানে হলো রাব্বি ছেলেটা খুব একটা সুবিধার না.. তুই ওর সাথে রিলেশন করিস না..
– তুই এমন বলছিস কেন..আমি ওকে ভালোবাসি..
তারপর কাব্য চারুলতাকে আজকের দেখা ঘটনার কথাটা বললো
– আমি এসব বিলিভ করি না..রাব্বি এমন হতেই পারে না…ও লাইফে অনেক কষ্ট পেয়েছে..! ও সব বলেছে আমায়…
কাব্য বললো, দেখ সেব কিছু তো সত্যি নাও হতে পারে..
– আমি আর কিচ্ছু শুনতে চাই না,
.
চারুলতা অনেকক্ষন কান্নাকাটি করছে, সে রাব্বিকে অনেক বিলিভ করে আর এখন সে রাব্বিকে তার মনে জায়গা দিয়েও ফেলেছে, ভালোবেসে ফেলেছে রাব্বিকে, তখনই রাব্বির ফোন আসলো, চারুলতা রাব্বিকে এসব কথা বলে দিলো, সব শুনে রাব্বি বলছে, আরে তুমি কেন বুঝতে পারছো না, এগুলো কোনো কিছুই সত্যি নয়, কেউ হয়তো জেলাস ফিল করছে, কেউ হয়তো চায় না আমাদের রিলেশনটা হোক, তাই আমার নামে এসব উল্টো পাল্টা বলছে,
রাব্বি এটা ওটা বলে চারুলতাকে আবার পটাতে সক্ষম হয়, চারুলতা রাব্বির প্রতি খুব দুর্বল তাই সে আবার রাব্বির সব কথা বিলিভ করে নিয়ে রাব্বির সাথে আবার কথা বলা শুরু করে,
অন্যদিকে কাব্যর কাছে এই রিলেশনটা একদমই ভালো লাগছে না, সে চারুলতার খারাপ চায় না, কিন্তু চারুলতা তো কিছু বুঝতেই চাইছে না, সে তো রাব্বির প্রতি আবেগ নিয়ে বসে আছে, আর রাব্বি ছেলেটা তো তেমন ভালো না, যদি চারুলতার কোন ক্ষতি করে,
.
কাব্য রাব্বির মেসে গিয়ে ওর সম্পর্কে খোঁজ নিলো, সেখানে গিয়ে জানতে পারে রাব্বির মতো লুচ্চা ছেলে তারা নাকি আর দেখে নি, রাব্বি নাকি প্রায়ই রুম ডেট করার জন্য বিভিন্ন মেয়েদের মেসে নিয়ে আসে, সে নাকি এক সাথে একাধিক মেয়েদের সাথে প্রেম করে আর এই সমস্ত কাজ করে, মেয়েরা ওর চেহারা, টাকা পয়সা আর ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে বলে গলে যায় আর রাব্বি তার কথা যাদুতে ভুলিয়ে খুব সহজেই মেয়েদের পটিয়ে ফেলতে পারে , সে সব মেয়েদের কাছেই নায়ক সেজে থাকে, কাব্য রাব্বির সদ্য ব্রেক আপ হওয়া সেই গার্ল ফ্রেন্ডের কাছে জানতে পারে, সে রাব্বিকে ধোকা দেই নি, রাব্বিই নাকি তাকে ধোকা দিয়েছে, রাব্বি ওর সাথে রিলেশনে থাকা অবস্থায় আরেকটা মেয়ের সাথে রিলেশন করে এটা জানার পরই সে রাব্বির থেকে কেটে পরে অথচ সবার কাছে এখন বলে বেড়ায় সে নাকি রাব্বিকে ধোকা দিয়েছে..!
.
কাব্য ফিরে এসে সব সত্য ঘটনা চারুলতাকে বললো, সব শুনে চারুলতা খুব ভেঙে পরে, সে কিছুতেই এসব বিলিভ করতে চাইছে না, কিন্তু একদিন দুপুরবেলা সে নিজের চোখে রাব্বিকে একটা মেয়ের সাথে খুব ক্লোজভাবে বসে থাকতে দেখলো, চারুলতা ওখানে গিয়ে রাব্বিকে বলছে, এসব কি হচ্ছে, তুমি এখানে এই মেয়ের সাথে কেন..?
রাব্বি উত্তর দিলো – ও আমার গার্ল ফ্রেন্ড,
চারুলতা এটা শুনে খুব রেগে গেল, শয়তান তুই আমার সাথে প্রতারণার করলি..! সবাই তাহলে ঠিকই বলেছে তুই একটা প্রতারক,
রাব্বির সাথে বসে থাকা মেয়েটা বলে উঠল, জান এই মেয়েটা তোমার নামে এসব কি বলছে..!
রাব্বি বললো, ও কিছু না জান, এই মেয়েটা আমার জন্য পাগল তাই সব সময় এমন করে, আমি ওকে একসেপ্ট করি নি আর তাই ও তোমার সাথে আমাকে সহ্য করতে পারছে না,
এসব শুনে সত্যি আজ চারুলতার মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো, একজন মানুষ এত সুন্দর করে মিথ্যা বলতে পারে..! এতটা নিচ এই রাব্বি..! ছি..!
.
চারুলতা কান্না করতে করতে ওখান থেকে চলে আসলো, যাকে সে তার জীবনের নায়ক ভেবেছিলো সেই রাব্বি তাকে এভাবে ঠকালো, চারুলতার বিষয়টা মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু সত্য তো সত্যই মেনে নিতেই হবে, রাতের বেলা রাব্বির সাথে চারুলতার অনেক ঝগড়া হয় রাব্বি অনেক অকথ্য আর অশালীন ভাষায় চারুলতাকে গালি দেয়, চারুলতা রাব্বির আসল রুপ চিনে নিয়েছে তাই রাব্বিকে সে ফেসবুক থেকে ব্লক আর কললিস্ট থেকে ব্লাকলিস্টে রেখে দিলো,
.
চারুলতার খুব মন খারাপ সে হলের ছাদে বসে একা একা কান্না করছে, জীবনের প্রথম প্রেম তাও ভালো ভবে শুরু না হতেই শেষ হয়ে গেলো, এভাবে ঠকতে হলো তাকে, কত কত চিন্তা আর স্বপ্ন দেখেছিলো সে রাব্বিকে নিয়ে, সেসব আর কিচ্ছু হবে না, চারুলতার এসব ভেবে এখন খুব কষ্ট হচ্ছে, হয়তো সে আর কোনোদিন কোনো ছেলেকে বিলিভ করতে পারবে না, ভালোবাসার মানুষ এভাবে মিথ্যা বলে ধোকা দিতে পারে রাব্বির সাথে পরিচয় না হলে সে হয়তো তা বুঝতেই পারতো না, চারুলতা খুব সহজ সরল বলেই এভাবে তাকে ঠকতে হলো, কিন্তু এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তার পাশে হয়তো এখন কাউকে প্রয়োজন,
তখনই কাব্যর ফোন আসে, চারুলতা ফোনটা রিসিভ করলো,
– মায়ার কাছে শুনলাম তুই নাকি অনেক কান্নাকাটি করছিস, দেখ চারুলতা জীবনের কিছু সত্য মেনে নিতে হয়, রাব্বি তোর জীবনের আসল নায়ক ছিলো না এটা যেমন সত্য তেমনি তোর জীবনের নায়ক অন্য কেউ এটাও সত্য, তোর জীবনে অন্য কেউ তোর নায়ক হয়ে আসবে, এখন মিছেমিছি এসব মিথ্যা কিছু নিয়ে কষ্ট পাস না তো,
চারুলতা তার চোখ মুছে শান্ত গলায় বললো, আমি ছেলেদের আর বিলিভ করি না,
কাব্য বললো, ঠিকাছে তোর বিলিভ করতে হবে না, বন্ধু হিসেবে আমাকে বিলিভ করিস তো, আমি তোর পাশে ছিলাম, আছি, আর ভবিষ্যৎতেও থাকবো, তোর এখন কোনো বয়ফ্রেন্ড না হলেও চলবে, তুই সব সময় বন্ধুদের সাথে থাকবি, আমাদের সাথে সময় কাটাবি, দেখবি লাইফে আর কোনো দুঃখ কষ্ট নেই, তারপর তোর ভাগ্যে তোর জন্য যে নায়ক আসার সে সময়মত ঠিকই আসবে,
.
চারুলতা আবার আগের মত সাভাবিক হতে শুরু করে, কাব্যর সাথে তার বন্ধুত্বটা আরও গাড় হয়ে গেল, তার এখন একটাই বন্ধু সেটা হচ্ছে কাব্য, সে সব সময় কাব্যর সাথে থাকে, কাব্যও চারুলতাকে ছাড়া আর কিছু বোঝে না, গুরুজনেরা বলেছেন, ছেলে মেয়ে বন্ধু হলে তারা কখনও শুধু বন্ধু থাকতে পারে না, খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও তারা একে অপরের প্রেমে পরবেই, ক্লাসের সবাই চারুলতা আর কাব্যর এত ক্লোজলি মেলামেশা দেখে ধরে নিয়েছে ওদের মধ্যে রিলেশন হয়েছে, ওদের এই ধারনার কথা কাব্য আর চারুলতা শোনার পরই দুইজনেই বললো, তাদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই ওরা শুধুমাত্র বন্ধু, এই কথা ক্লাসের কেউ বিলিভই করলো না, ওরা ধরে নিয়েছে কাব্য আর চারুলতা হয়তো তাদের রিলেশনের ব্যপারে পাবলিককে এখন জানাতে চায় না তাই তারা এমন বলছে, কিন্তু এটা সত্য যে কাব্য আর চারুলতা এখন দুইজন দুজনকে ছাড়া কিছুই বোঝে না, এটা প্রেমের লক্ষণ কিনা তারা জানে না, তারা কেউই একে অপরের কাছে মনের এই আবেগের বিষয়টা এখনো প্রকাশ করে নি, তবে কাব্য আর চারুলতা সব সময় এক সাথেই থাকে, একে অপরকে সাহায্য করে, কাব্য চারুলতাকে অনেক বোঝে আর কেয়ারও করে, চারুলতার এখন মনে হয়, কাব্যের মত একজনকে যদি আমার জীবনের নায়ক হিসেবে পেতাম, অপরদিকে কাব্যও চারুলতাকে একদিন না দেখে থাকতে পারে না, কিন্তু মনের কথা কোনো দিন বলে নি যদি চারুলতা বিষয়টা ভুল বোঝে কারন ও আগে একবার কষ্ট পেয়েছে, কাব্য মনে মনে ভাবছে, আমি চাই চারুলতা সব সময় ভালো থাকুক, আমার কারনে ওকে কোনো দিন কোনো কষ্ট পেতে দিবো না, এখন বন্ধু হয়ে আমার পাশে আছে এইটাই বা কম কি, আমার কি যোগ্যতা আছে ওর জীবনের নায়ক হওয়ার, ও হয়তো আমাকে শুধু বন্ধু হিসাবেই দেখেছে , অন্য কিছু ভাবে না,
….
….
চলবে..
People Came Here By Searching :
Jokes, bangla golper boi, bangla jokes pdf, bengali jokes pdf, bangla jokes book pdf download, gopal bhanrer 111 hasir golpo, bangla jokes pdf free download, bangalir hasir golpo, bdjobs, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes app, school jokes, funny jokes dirty, jokes app, joke book, short funny jokes, jokes in english, dad jokes, funny jokes, jokes, jokes for kids, dirty jokes, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes dirty, short funny jokes, hilarious jokes, clean jokes, really funny jokes, good jokes, funniest jokes ever, funniest joke in the world, inappropriate jokes, short jokes, deez nuts jokes, blonde jokes, bad jokes, offensive jokes, pun jokes, mom jokes, little johnny jokes,
jokes dirty, hilarious jokes, jokes for adults, very funny jokes, funny jokes clean, seriously funny jokes, dad jokes, corny jokes, , seriously funny jokes, funny jokes clean, funny jokes dirty, i need a funny joke, very funny jokes in english, most hilarious joke, funny knock knock jokes, funny jokes for adults, , clean jokes that are actually funny, funniest clean joke ever, greek jokes clean, clean joke of the day, somewhat clean jokes, long clean jokes, edgy clean jokes, i need a funny joke, funny jokes for kids(10-11), sick kid jokes, funny jokes for kids: 100 hilarious jokes, funny jokes for kids(8-9), funny jokes for kids(10-11) in hindi, kids joke of the day, silly jokes, jokes and riddles, , silly jokes for adults, funny silly jokes, 25 silly jokes, crazy silly jokes, seriously funny jokes, very funny jokes, hilarious jokes, awesome jokes, Jokes, bangla golper boi, bangla jokes pdf, bengali jokes pdf, bangla jokes book pdf download, gopal bhanrer 111 hasir golpo, bangla jokes pdf free download, bangalir hasir golpo, bdjobs, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes app, school jokes, funny jokes dirty, jokes app, joke book, short funny jokes, jokes in english, dad jokes, funny jokes, jokes, jokes for kids, dirty jokes, yo mama jokes, adult jokes, funny jokes dirty, short funny jokes, ilarious jokes, clean jokes, really funny jokes, good jokes, funniest jokes ever, funniest joke in the world, inappropriate jokesshort jokes, deez nuts jokes, blonde jokes, bad jokes, offensive , jokes, pun jokes, mom jokes, little johnny jokes
Monday, October 21, 2019
Home
bangla jokes 2018
bangla jokes sms
funny jokes bangla new
Jokes
jokes in english
jokes pic
jokes video
very funny jokes
Jokes @@@@@@@@@@ কে নায়ক !! @@@@@@@@@@ Best Education Page Jokes
Jokes @@@@@@@@@@ কে নায়ক !! @@@@@@@@@@ Best Education Page Jokes
Tags
bangla jokes 2018#
bangla jokes sms#
funny jokes bangla new#
Jokes#
jokes in english#
jokes pic#
jokes video#
very funny jokes#
Share This
About Anonymous
very funny jokes
Labels:
bangla jokes 2018,
bangla jokes sms,
funny jokes bangla new,
Jokes,
jokes in english,
jokes pic,
jokes video,
very funny jokes
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
Md Hridoy Hossain
I am the person who knows how to enjoy my life as it is the best gift everyone is given. I never give up and have an optimistic approach to all situations that can occur on my way. I appreciate traditional values and still believe in real friendship and sympathy to others. I am sure our world depends on us, I mean the way we treat each other. Well, everything in our hands and love is not an exception. I am here and ready to change my life, to complete it I Belive that Nothing is Impossible if we try enough. I didn't like to follow i liked being followed.

No comments:
Post a Comment